সুনামগঞ্জ
প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উদীচীর বর্ষবরণ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
ছবি: সুনামগঞ্জে জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী
সুনামগঞ্জে জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপন করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের হোসেন বখত চত্বরে প্রতিবাদী সংগীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা নতুন বছরকে বরণ করে নেয়।
জানা গেছে, প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও উদীচী জেলা শাখা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গানের তালিকা ও পরিবেশনার বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার শর্ত দেওয়ায় তা প্রত্যাখ্যান করে সংগঠনটি। পরে শহরের বিকল্প স্থানে অনুষ্ঠান করার উদ্যোগ নিলেও শেষ মুহূর্তে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরজুড়ে অনুষ্ঠান আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় বলে দাবি করেন উদীচী নেতারা।
মঙ্গলবার সকালে শহরের হোসেন বখত চত্বরে সমবেত হয়ে গানে গানে বর্ষবরণ করেন সংগঠনটির শিল্পী ও কর্মীরা। এসময় জাহাঙ্গীর আলমের রচনায় ও সাইদুর রহমান আসাদের সঞ্চালনায় হাওরের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবাদী পথনাটক ‘বাঁধ’ মঞ্চস্থ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে শহরে একটি গানের মিছিল বের করা হয়।
উদীচী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন বলেন, প্রশাসনের এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার পরিপন্থি। সুরমা নদীর তীরের রিভারভিউ এলাকায় আমাদের পূর্বনির্ধারিত জায়গায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় আমরা উন্মুক্ত স্থানে প্রতিবাদী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। উদীচী সবসময়ই গণমানুষের কথা বলে এবং যেকোনো প্রতিকূলতায় সাংস্কৃতিক আন্দোলন অব্যাহত রাখবে।
এর আগে রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে উদীচী জানায়, প্রশাসনের আরোপিত শর্তগুলো অযৌক্তিক এবং এটি মুক্ত সংস্কৃতি চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করার শামিল। তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, যেহেতু সরকারিভাবে সব সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করা হয়েছিল। উদীচীকেও সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে আলাদা অনুমোদন দেওয়া যায় কীভাবে।
