শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন যেভাবে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৯:০০ এএম
ছবি : সংগৃহীত
শিশুর নিরাপত্তা এখন আর শুধু ঘরের ভেতরের বিষয় নয়। ডিজিটাল জগৎ, স্কুল, খেলার মাঠ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন চলাফেরার প্রতিটি জায়গায় তৈরি হয়েছে নতুন নতুন ঝুঁকি। তাই অভিভাবকের দায়িত্ব এখন শুধু দেখাশোনায় সীমাবদ্ধ নয়, সচেতনতা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ঘরের ভেতরের নিরাপত্তা
শিশুর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হওয়া উচিত তার নিজস্ব ঘর। তবে ঘরেও কিছু বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। বিদ্যুৎ সংযোগ, ধারালো বস্তু, ওষুধ কিংবা ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ সবসময় শিশুর নাগালের বাইরে রাখতে হবে। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে জানালা, বারান্দা ও সিঁড়ির নিরাপত্তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া ছোট বয়সী শিশুকে দীর্ঘসময় একা ঘরে রেখে না দেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
ডিজিটাল নিরাপত্তা ও মোবাইল ব্যবহার
বর্তমান সময়ে শিশুদের বড় একটি অংশ স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। তবে অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল ব্যবহার তাদের জন্য নানা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অচেনা কনটেন্ট, অনলাইন গেম কিংবা অপরিচিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ—এসব বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর স্ক্রিন টাইম নির্ধারণ করা এবং অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে ডিজিটাল ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আরো পড়ুন : ধর্ষণের পর হত্যা, গুম করতেই ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন
স্কুল ও বাইরে চলাফেরা
স্কুলে যাওয়া-আসা কিংবা বাইরে খেলাধুলার সময় শিশুরা অনেক ক্ষেত্রে অপরিচিত মানুষের সংস্পর্শে আসে। তাই ছোটবেলা থেকেই তাকে “সেফ টাচ” ও “নো টাচ” সম্পর্কে ধারণা দেওয়া প্রয়োজন।
অপরিচিত কেউ কিছু দিলে বা কোথাও ডাকলে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে, তা সহজ ভাষায় শিশুকে বোঝানো উচিত। পাশাপাশি নিরাপদ পরিবহন ব্যবহার ও পরিচিত রুটে চলাচলের বিষয়েও অভিভাবকদের নজর রাখা দরকার।
মানসিক নিরাপত্তাও জরুরি
শিশুর নিরাপত্তা শুধু শারীরিক নয়, মানসিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত শাসন বা ভয় দেখিয়ে বড় করলে শিশুর আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে। তাই শিশুর সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, তার অনুভূতির গুরুত্ব দেওয়া এবং কোনো সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
সচেতনতাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা
শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব পরিবারের। প্রযুক্তি ও সামাজিক পরিবর্তনের এই সময়ে সচেতন অভিভাবকই শিশুর প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বলয়। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, খোলামেলা যোগাযোগ এবং সঠিক শিক্ষা—এই তিনটি বিষয়ই শিশুকে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হতে সহায়তা করে।
