×

যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ্যে এলো কুখ্যাত এপস্টিনের সুইসাইড নোট

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০১:২৫ পিএম

প্রকাশ্যে এলো কুখ্যাত এপস্টিনের সুইসাইড নোট

ছবি : সংগৃহীত

বুধবার (৬ মে) একটি নথি প্রকাশ করেছেন মার্কিন এক ফেডারেল বিচারক। এই নথিকে মৃত জেফ্রি এপস্টিনের কথিত ‘সুইসাইড নোট’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। নোটটিতে লেখা ছিল, “বিদায় বলার সময় নিজেই বেছে নিতে পারা এক ধরনের স্বস্তি।”

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অভিযুক্ত যৌন পাচারকারী ও বিতর্কিত অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টিনকে ২০১৯ সালের আগস্টে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি কারাগারের কক্ষে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করে।

হাতে লেখা ওই নোটটি এপস্টিনের সাবেক সেলমেট, দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা নিকোলাস টার্টাগ্লিওনে খুঁজে পেয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়।

টার্টাগ্লিওনের মামলার বিচারক কেনেথ কারাস নিউইয়র্ক টাইমস এর আবেদনের পর নোটটি প্রকাশ করেন। গত সপ্তাহে পত্রিকাটি প্রথমবার নোটটির অস্তিত্বের তথ্য প্রকাশ করে।

আরো পড়ুন : কুখ্যাত এপস্টিনের ‘পুরুষ ক্লাবে’ নারীদের কীভাবে দেখা হতো

বিচারক কারাস বলেন, টার্টাগ্লিওনের ফৌজদারি মামলার নথির সঙ্গে এটি জমা দেওয়া হয়েছিল। ফলে এটি জনসাধারণের জানার অধিকারের আওতায় পড়ে। মাদকসংক্রান্ত হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত টার্টাগ্লিওনে বর্তমানে টানা চারটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

তবে বিচারক নোটটির সত্যতা বা এটি কীভাবে সংরক্ষিত ছিল, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তার ভাষ্য, নথি প্রকাশের সিদ্ধান্তে এসব বিষয় প্রাসঙ্গিক নয়।

রায়ে তিনি উল্লেখ করেন, “নোটটি গোপন রাখার পক্ষে কোনো পক্ষই গ্রহণযোগ্য যুক্তি দেখাতে পারেনি।”

হলুদ রঙের আইনি নোটপ্যাডে লেখা নোটটি টার্টাগ্লিওনের আইনজীবীরা আদালতে জমা দেন। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে নিউইয়র্কের কারাগারে প্রায় দুই সপ্তাহ এপস্টিন ও টার্টাগ্লিওনে একই কক্ষে ছিলেন।

আদালতে প্রকাশিত নোটের ছবিতে লেখা রয়েছে, “তারা মাসের পর মাস তদন্ত করল—কিছুই পেল না। তাই ১৫ বছর আগের অভিযোগ সামনে আনা হলো।” আরেক অংশে লেখা ছিল, “কখন বিদায় জানাব, সেটা নিজে ঠিক করতে পারা এক ধরনের আনন্দ। তোমরা কী চাও—আমি কান্নায় ভেঙে পড়ি!”

২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় এক অপ্রাপ্তবয়স্কের কাছ থেকে যৌনসেবা নেওয়ার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন এপস্টিন। সে মামলায় বিতর্কিত সমঝোতা ও স্বল্পমেয়াদি কারাদণ্ড হয় তার। পরে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। তখন তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌনকাজে পাচার এবং নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডায় তাদের প্রলোভন দেখিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়।

২০১৯ সালের জুলাইয়ে এপস্টিনকে গলায় দাগসহ জীবিত অবস্থায় কারাকক্ষে পাওয়ার পর নোটটির বিষয়টি সামনে আসে। পরে কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে আত্মহত্যার চেষ্টা বলে উল্লেখ করে।

টার্টাগ্লিওনের দাবি অনুযায়ী, তাদের যৌথ সেলের একটি বইয়ের ভেতরে নোটটি রাখা ছিল। কয়েক সপ্তাহ পর, ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট পৃথক আরেক ঘটনায় এপস্টিন মারা যান, যেটিকেও আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়।

টার্টাগ্লিওনে গত বছর এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে নোটটির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তবে গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক টাইমস এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। পত্রিকাটি জানায়, ফেডারেল তদন্তকারীরা কখনও নোটটি দেখেননি এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশ করা লাখো এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিতেও এটি ছিল না।

তবে নথি প্রকাশের নির্দেশ দিতে গিয়ে বিচারক ব্যক্তিগত গোপনীয়তার যুক্তি খারিজ করে দেন। তার মতে, এপস্টিনের মৃত্যু ও কথিত নোটটি নিয়ে ব্যাপক জনআলোচনার কারণে এটি আর গোপন রাখার প্রয়োজন নেই।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনের ফাঁসি

কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনের ফাঁসি

মা দিবসে ‘মা পদক’ পাচ্ছেন ববিতা

মা দিবসে ‘মা পদক’ পাচ্ছেন ববিতা

স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় স্বামী আটক

স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় স্বামী আটক

অভয়নগরে সার ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

অভয়নগরে সার ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App