সিডনিতে স্ত্রী ও ২ প্রতিবন্ধী সন্তানকে হত্যা করল বাংলাদেশি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
ছবি : সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে এক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমের ক্যাম্পবেল টাউন এলাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগে ৪৭ বছর বয়সী এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ। নিহত দুই সন্তানের বয়স যথাক্রমে ১২ ও ৫ বছর। দুজনেই ‘লার্নিং ডিফিকাল্টি’ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (অটিজম বা বিকাশজনিত সমস্যা) শিশু ছিল বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় পুলিশকে ফোন করে ঘটনার কথা জানান। এরপর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির ভেতর থেকে অভিযুক্তের ৪৬ বছর বয়সী স্ত্রী এবং দুই শিশুর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের অ্যাক্টিং সুপারিনটেনডেন্ট মাইকেল মরোনি গণমাধ্যমকে জানান, ক্যাম্পবেল টাউনের ওই বাড়ির ভেতরের দৃশ্য ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ ও সহিংস। নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা সাধারণের দেখার উপযুক্ত নয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করলেও কোনো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি।
অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার প্রায় এক দশক আগে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী হয়ে যান। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি কোনো চাকরি করতেন না এবং বাড়িতে থেকেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দুই সন্তানের দেখাশোনা করতেন। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী বাইরে কাজ করতেন এবং তিনিই পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন।
গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক ‘পারিবারিক সহিংসতাজনিত হত্যা’ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার ক্যাম্পবেল টাউন আদালতে তাঁর আইনজীবী জাওয়াদ হোসাইন সংক্ষিপ্তভাবে তাঁর পক্ষে বক্তব্য দেন।
আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক ঘটনা। আমার মক্কেল লকআপে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তবে পারিবারিক সহিংসতার পূর্ব ইতিহাস, মাদকাসক্তি বা মানসিক অসুস্থতা ছিল কি না—এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, এই পরিবারের বিরুদ্ধে আগে কখনো পারিবারিক সহিংসতা বা অপরাধমূলক কোনো অভিযোগ ছিল না। এমনকি শিশু সুরক্ষা বা সমাজকল্যাণ বিভাগের সঙ্গেও তাদের কোনো পূর্ব যোগাযোগ পাওয়া যায়নি।
আরো পড়ুন : ক্যালিফোর্নিয়ায় ইসলামিক সেন্টারে গুলি, নিহত ৫
এদিকে এই ঘটনায় ক্যাম্পবেল টাউন এলাকায় গভীর শোক ও স্তব্ধতা নেমে এসেছে। এক প্রতিবেশী বলেন, বাচ্চা দুটোকে প্রায়ই বাইরে খেলতে দেখতাম। তারা ছিল একেবারেই নিষ্পাপ। অন্য এক প্রতিবেশী জানান, নিজের এলাকায় এমন ঘটনা কল্পনাও করা যায় না। আমরা সবাই স্তব্ধ হয়ে গেছি।
স্থানীয়রা নিহতদের বাড়ির সামনে ফুল রেখে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। নিউ সাউথ ওয়েলস প্রদেশের প্রিমিয়ার ক্রিস মিনস এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই ভয়াবহ ঘটনায় সাধারণ মানুষ যেমন ক্ষুব্ধ ও বিধ্বস্ত, আমিও তেমনি গভীরভাবে শোকাহত।
তিনি জানান, আগামী জুনের বাজেটে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে বড় ধরনের অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর মতে, এই খাতে বর্তমান সহায়তা যথেষ্ট নয় এবং সরকার এটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ প্রদেশজুড়ে পারিবারিক সহিংসতা বিরোধী বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন আমারক’-এর মাধ্যমে প্রায় এক হাজার জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর কয়েক দিনের মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনা সিডনির প্রবাসী সমাজসহ পুরো অস্ট্রেলিয়ায় গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগীদের পরিচয় ও সামাজিক সুরক্ষার স্বার্থে আইনগত কারণে অভিযুক্ত ও নিহতদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
