কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল লতিফ। ছবি : সংগৃহীত
তিনটি হত্যা মামলায় কারাবন্দি সাতক্ষীরা জেলা জজকোর্টের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল লতিফ মারা গেছেন। সোমবার (২৫ মে) ভোর ৪টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, রাত ৩টার দিকে কারাগারের ভেতরে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের জেলার দুলাল কর্মকার জানান, রাত ৩টার দিকে আব্দুল লতিফ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসা চলাকালে ভোর ৪টার দিকে তিনি মারা যান।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আব্দুর রহমান জানান, রাত ৩টা ৩৫ মিনিটে বুকে ব্যথা নিয়ে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
আরো পড়ুন : আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ইউসুফ হোসেন মারা গেছেন
আব্দুল লতিফ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামার বায়সা গ্রামের মৃত মুনসুর সরদারের ছেলে। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) উপদেষ্টা এবং বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
সাবেক এই পিপি ও সাতক্ষীরা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাতক্ষীরা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবির সুপারিশে তিনি জেলা জজ আদালতের পিপি হিসেবে নিয়োগ পান। ওই সময় তার বিরুদ্ধে আইনজীবীদের বিভিন্ন আন্দোলনও হয়েছিল। আরো অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনের সময় আদালতপাড়া নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও খাত থেকে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তার বিরুদ্ধে আটটি হত্যা ও নাশকতার মামলা হয়। এছাড়া তার ছেলে রাসেলের বিরুদ্ধেও তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। এরপর তারা খুলনায় আত্মগোপনে ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর খুলনার বয়রা এলাকা থেকে পুলিশ আব্দুল লতিফ ও তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক ছিলেন।
নিহতের মেয়ে শাম্মি জানান, কারাবন্দি অবস্থায় তার বাবা ও ভাইকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই তারা বিভিন্ন মামলায় জড়িত ছিলেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মাসুদুর রহমান জানান, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল করা হবে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
