ভোলা
ঈদ সামনে রেখে জমজমাট পশুর হাট, প্রস্তুত লক্ষাধিক পশু
ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ভোলার পশুর হাটগুলো জমজমাট হয়ে উঠেছে। হাটে গবাদিপশুর সমারোহ থাকলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত বেচাকেনা শুরু হয়নি। খামারিদের আশা, আগামী সাত দিনের মধ্যে কেনাবেচা বাড়বে।
জেলায় এবার কোরবানির জন্য ১ লাখ ৩ হাজারের বেশি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত মুনাফা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন খামারিরা। তাঁদের আশা, ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ না করলে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাবে।
ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা গেছে, খামারিরা পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিক্রির জন্য গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত করছেন তাঁরা।
রাজাপুর ইউনিয়নের খামারি দুলাল ব্যাপারী বলেন, তাঁর খামারে ‘কালাচাঁন’ ও ‘সাদাচাঁন’ নামের দুটি বড় গরু রয়েছে। একটির ওজন ২২ মণ এবং অন্যটির ১৮ মণ। গরু দুটির পেছনে ব্যাপক খরচ হচ্ছে। কাঁচা ঘাসের পাশাপাশি অন্যান্য খাবারও দিতে হচ্ছে। গোখাদ্যের দাম বাড়ায় অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে তাঁকে। ভালো দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি।
আলীনগর ইউনিয়নের বিসমিল্লাহ এগ্রো হাউসের মালিক আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর কোরবানির বাজারে ৪০ থেকে ৫০টি গরু বিক্রি করেন তিনি। এবার বিক্রির জন্য তাঁর খামারে ৫৫টি গরু প্রস্তুত রয়েছে। ভারতীয় গরু না এলে এবারও ভালো লাভের আশা করছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলায় কোরবানির চাহিদা ৮১ হাজার ১৮০টি পশু। এর বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ১৭টি পশু। এর মধ্যে গরু ৬৫ হাজার ২৭০টি, মহিষ ৪ হাজার ৭০২টি, ছাগল ২৬ হাজার ৪১৮টি। চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত থাকবে ২১ হাজার ৮৩৭টি পশু, যা অন্য জেলায় সরবরাহ করা হবে।
এ ছাড়া জেলায় ৪৯টি স্থায়ী ও ১০০টি অস্থায়ী পশুর হাট বসবে। এসব হাটে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ২৪টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করবে। তারা অবৈধভাবে গরু মোটাতাজাকরণ শনাক্তে কাজ করবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “আমাদের নির্দেশনায় জেলার খামারিরা কাঁচা ঘাস খাইয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করেছেন। অবৈধভাবে গরু মোটাতাজা করলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। হাটে আমাদের মেডিকেল টিম থাকবে। তারা পশুর স্বাস্থ্যগত বিষয় তদারকি করবে।”
