রয়টার্সকে তারেক রহমান
ঐক্য সরকার নয়, একক জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পর ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব নাকচ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, তার দল এককভাবেই সরকার গঠনে সক্ষম হবে বলে তারা আত্মবিশ্বাসী।
ঢাকায় দলীয় কার্যালয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দলে থাকবে কারা? তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী যদি বিরোধী দলে থাকে, তবে তাদের কাছ থেকে একটি কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।
প্রায় দুই দশক লন্ডনে অবস্থান করার পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি দেশে ফেরেন। শেখ হাসিনা ছিলেন তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতে ইসলামী মাঠে রয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পরিচালনা করেছিল। সম্প্রতি দেশকে স্থিতিশীল রাখতে ঐক্য সরকারের প্রস্তাব দেয় জামায়াত, তবে বিএনপি তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
আরো পড়ুন : বিএনপি প্রার্থী কাইয়ুমের প্রার্থিতা, এবার আপিল বিভাগে নাহিদ
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, দলটি সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করবে বলে তারা আশাবাদী। বিএনপি সরাসরি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে এবং বাকি আসনগুলোতে তাদের মিত্ররা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা উল্লেখ না করলেও তারেক রহমান বলেন, আমরা সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত আসন পাব— এ বিষয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী।
এদিকে বিভিন্ন জনমত জরিপে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা দেখা গেলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ওই জোটে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি নতুন দলও রয়েছে, যারা শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে এসেছে।
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল হতে চায় না। তিনি বলেন, আমাদের প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। যে দেশ বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা দিতে আগ্রহী হবে, আমরা তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্ব করব।
রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিরাপদে নিজ দেশে ফেরার পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তারা বাংলাদেশে থাকতে পারবে। তিনি বলেন, আমরা চাই তারা নিজ দেশে ফিরে যাক। কিন্তু পরিস্থিতি নিরাপদ না হলে তারা এখানে স্বাগত।
