×

ক্যাম্পাস

চিকিৎসক সংকটে ধুঁকছে বেরোবি মেডিকেল সেন্টার, বেহাল চিকিৎসা ব্যবস্থা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

চিকিৎসক সংকটে ধুঁকছে বেরোবি মেডিকেল সেন্টার, বেহাল চিকিৎসা ব্যবস্থা

ছবি : ভোরের কাগজ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) মেডিকেল সেন্টারের সেবা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর পার হলেও কাটেনি সংকট। প্রায় ৯ হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্য মাত্র ৪ জন চিকিৎসক ও নার্স আছে মাত্র ১ জন। নেই ২৪ ঘণ্টার চিকিৎসাসেবা, আবাসিক ব্যবস্থা কিংবা গাইনি বিশেষজ্ঞ। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্ভর করতে হচ্ছে বাইরের ক্লিনিক ও হাসপাতালের ওপর।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ২২টি বিভাগে প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। এর মধ্যে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার। কিন্তু বিপুলসংখ্যক নারী শিক্ষার্থীর জন্য মেডিকেল সেন্টারে নেই কোনো গাইনি বিশেষজ্ঞ। এতে নারী শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় তিন-চারটি কক্ষ নিয়ে পরিচালিত এই মেডিকেল সেন্টারটি। সেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসাসেবা নেন। তবে নেই আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, ল্যাব সুবিধা। সঙ্গে পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি এক হাজার মানুষের জন্য ১ জন চিকিৎসক এবং প্রতি চিকিৎসকের বিপরীতে ৩ জন নার্স থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বেরোবিতে একজন চিকিৎসককে গড়ে প্রায় ২২৫০ জনকে সেবা দিতে হচ্ছে। চিকিৎসকের তুলনায় নার্সের সংখ্যাও অত্যন্ত কম।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মেডিকেল সেন্টার শুধু সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সীমিত সময় খোলা থাকে। শুক্রবার ও শনিবার পুরোপুরি বন্ধ থাকে। ফলে সন্ধ্যা কিংবা রাতে কেউ অসুস্থ হলে প্রাথমিক চিকিৎসাও পাওয়া যায় না। জরুরি অবস্থায় রোগীদের প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে হয়।

আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে রোগ নির্ণয়ের জন্য বাইরের ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে গিয়ে আর্থিকভাবে অসচ্ছল অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে পারছেন না।

এ বিষয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী তাসনিম জান্নাত তানিম বলেন, “অসুস্থতা সময় মেনে আসে না। কিন্তু মেডিকেল সেন্টার বিকেল ৫টার পর বন্ধ থাকায় রাতে অসুস্থ শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক চিকিৎসাসেবাও পান না। এছাড়া অভিজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে অনেককেই বাইরে চিকিৎসা নিতে হয়।”

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাদিমুল হাসান বলেন, “আমাদের এই মেডিকেল সেন্টারে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতির কারণে ঠিকভাবে চিকিৎসা পাচ্ছি না। সামান্য আঘাত কিংবা কোথাও কেটে গেলে এখানে প্রাথমিক সেলাইয়ের ব্যবস্থা পর্যন্ত নেই, ফলে বাইরে যেতে বাধ্য হতে হয়।”

গত বছরের ৬ আগস্ট থেকে প্রতি বুধবার বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত খণ্ডকালীন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ সেবা চালু করা হয়েছিল। পরে মেডিসিন বিশেষজ্ঞও যুক্ত করা হয়। তবে ঈদুল ফিতরের ছুটির পর থেকে সেই বিশেষজ্ঞ সেবা বন্ধ।

এ বিষয়ে বেরোবির ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ও অফিস প্রধান (ডেন্টাল সার্জন) ডা. এ. এম. এম. শাহরিয়ার বলেন, “আমাদের মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসাসেবা বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। সে অনুযায়ী বিদ্যমান সেবায় শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট থাকলেও প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর পার হওয়ায় এখন সেকেন্ডারি স্তরের চিকিৎসাসেবা চালু করা প্রয়োজন। প্রায় ৯ হাজার সেবাগ্রহীতার বিপরীতে মাত্র ৪ জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন, যা মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা। এছাড়া বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ন্যায় সেকেন্ডারি স্তরের চিকিৎসাসেবা চালু করতে হলে পৃথক ভবন নির্মাণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, “আমরা অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছি। নতুন করে রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও ছাত্রী হলে কাজ শুরু করেছি। আশা করি মেডিকেল সেন্টারের কাজও শুরু করতে পারব। এতে মেডিকেল সেন্টারেরও সংকট কাটিয়ে ওঠা যাবে।”

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বাংলাদেশি গরু ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় বিএসএফকে প্রতিহত করল এলাকাবাসী

বাংলাদেশি গরু ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় বিএসএফকে প্রতিহত করল এলাকাবাসী

রোমাঞ্চকর জয়ে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে মোহামেডান

রোমাঞ্চকর জয়ে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে মোহামেডান

৫ খুনের আগে যা যা করেছিলেন ফোরকান

৫ খুনের আগে যা যা করেছিলেন ফোরকান

লঘুচাপ ঘনীভূত হওয়ার আভাস, বাড়তে পারে বৃষ্টি

লঘুচাপ ঘনীভূত হওয়ার আভাস, বাড়তে পারে বৃষ্টি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App