×

চট্টগ্রাম

ফটিকছড়ি পৌর সদর

নকশাবহির্ভূত বহুতল ভবন নির্মাণের হিড়িক

Icon

মুহাম্মদ দৌলত, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম

নকশাবহির্ভূত বহুতল ভবন নির্মাণের হিড়িক

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌর সদরে নকশাবহির্ভূত বহুতল ভবন নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। অধিকাংশ মালিক পৌরসভার বিধি ও জাতীয় বিল্ডিং কোড অমান্য করে যেনতেনভাবে ভবন নির্মাণ করে অর্থ উপার্জনের পথ বেছে নিয়েছেন। নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের কারণে পৌর সদর বিবিরহাট যেমন বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে, তেমনিভাবে প্রাণনাশের মতো দুর্ঘটনাও ঘটছে অহরহ।

জানা যায়, অনুমোদন ফি ও হোল্ডিং ট্যাক্স ফাঁকি দিতে ভবন মালিকেরা পৌরসভার কতিপয় কর্মকর্তার সাথে যোগসাজশ করে এমন তৎপরতা চালিয়ে থাকেন। ফটিকছড়িতে প্রবাসীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় তাঁদের একটি বড় অংশ পৌর সদরে বহুতল ভবন নির্মাণে ঝুঁকে থাকেন।

আবেদনের পর পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ যাচাই-বাছাই শেষে নকশা অনুমোদন দেওয়ার কথা থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটতে দেখা যায়। অন্যদিকে, ভবন নির্মাণের লে-আউট এবং ফাউন্ডেশন দেওয়ার সময় পৌরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবহিত ও উপস্থিতি নিশ্চিতকরণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা ক্ষেত্রবিশেষে মানা হচ্ছে না।

সম্প্রতি পৌর সদর বিবিরহাট বাজারস্থ চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ভুল তথ্য দিয়ে অনুমোদন নেওয়া ‘হাসান টাওয়ারের’ সাত তলার ছাদ থেকে পড়ে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হলে তা কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ‘টক অব ফটিকছড়িতে’ পরিণত হয়।

১৬ মে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভবনটি পাঁচ তলা পর্যন্ত অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে দাঁড়িয়ে আছে আট তলা। এর বাইরে ছাদের ওপর অতিরিক্ত চারটি কক্ষ স্থাপন করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে, ছাদে নিরাপত্তার রেলিংগুলোর উচ্চতা কম হওয়ায় ঘটেছে প্রাণনাশের মতো দুর্ঘটনা। শিশু মৃত্যুর পর খোঁজ নিতে গিয়ে বেরিয়ে আসে ভবন নির্মাণে অনিয়মের ভয়াবহ চিত্র।

অপরদিকে, ভবনটি আট তলা বিশিষ্ট হলেও হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান করছে পাঁচ তলার হিসাব ধরে। যার ফলে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর বড় অঙ্কের কর আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফটিকছড়ি পৌর সদরে নকশাবহির্ভূত এ রকম অর্ধশতাধিক ভবনের অস্তিত্ব চোখে পড়লেও পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসন নির্বিকার।

অভিযুক্ত হাসান টাওয়ারের মালিকের মন্তব্য জানতে গিয়ে ভবনের কেয়ারটেকার জানান, তিনি বর্তমানে দুবাইতে অবস্থান করছেন। পরে মালিকের প্রতিনিধি পরিচয় দেওয়া আফছার উদ্দিন চৌধুরী জানান, “যতটুকু জানি পৌরসভার অনুমোদন নিয়েই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে ফটিকছড়ি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বিকাশ চন্দ্র দাশ বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “অনেকে পাঁচ তলার অনুমোদন নিয়ে আইন অমান্য করে সাত-আট তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ করছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অবৈধ। ভবন নির্মাণের সময় প্রকৌশল বিভাগকে অবগত করার নিয়ম থাকলেও অনেকে তা মানতে চান না।”

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌরসভার প্রশাসক সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, “আইন অমান্য করে নকশাবহির্ভূতভাবে যেসব বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনোভাবেই জনজীবন ঝুঁকিতে ফেলার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।”

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

দুপক্ষের সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি নিহত

দুপক্ষের সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি নিহত

জৈন্তাপুরে ৪৬৫ পরিবার পেল ফ্যামিলি কার্ড

জৈন্তাপুরে ৪৬৫ পরিবার পেল ফ্যামিলি কার্ড

জুনের শুরুতে দেশে ফিরছেন সুস্থ মির্জা আব্বাস

জুনের শুরুতে দেশে ফিরছেন সুস্থ মির্জা আব্বাস

বিভ্রান্তি ছড়িয়ে প্রতিশ্রুতি পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে

প্রধানমন্ত্রী বিভ্রান্তি ছড়িয়ে প্রতিশ্রুতি পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App