মৃত্যুর ৩৮ দিন পর দেশে ফিরলো মরদেহ
রবিউল ইসলাম বাবুল, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর প্রশাসনিক জটিলতা শেষে অবশেষে স্বজনদের কাছে ফিরেছে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বাসিন্দা খাইরুজ্জামানের মরদেহ।
অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে কারাবন্দি থাকা অবস্থায় মৃত্যুর ৩৮ দিন পর বৃহস্পতিবার (দুপুর আড়াইটার দিকে) লালমনিরহাটের চেংড়াবান্দা (বুড়িমারী) স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন দিয়ে তার নিথর দেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত খাইরুজ্জামান (৪২) উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের কালুডাঙা গ্রামের মৃত আব্দুল্লার ছেলে।
জীবিকার তাগিদে প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে তিনি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়ে কারাগারে যান।
দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি তাকে জলপাইগুড়ি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মধ্যে দীর্ঘ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদ ইবনে সিদ্দীক জানান, ভোরের কাগজ সাংবাদিকে জানান, কলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি, বিজিবি, বিএসএফ, দুই দেশের পুলিশ ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহটি বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হয়। পরে ইমিগ্রেশন পুলিশ মরদেহটি গ্রহণ করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়।
এদিকে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকা। খাইরুজ্জামানের ছোট ভাই খয়বর জামান বলেন, “ভাই দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। আমরা জানতাম না তিনি কোথায় আছেন। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই জানতে পারি তিনি ভারতের কারাগারে ছিলেন। মায়ের একমাত্র ইচ্ছা ছিল ছেলের মুখ শেষবারের মতো দেখা—আজ সেই ইচ্ছা পূরণ হলো।”
বুড়িমারী ইমিগ্রেশন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মৃত খারুজ্জামানের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতেই নিজ গ্রাম পশ্চিম কালুডাঙায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। মৃত্যুকালে খাইরুজ্জামান স্ত্রী, এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রেখে গেছেন।
