অবৈধ বালু উত্তোলন হালাল করতে সাজানো মানববন্ধন, এলাকায় চাপা ক্ষোভ
সুরেশ চন্দ্র রায়, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ১১:২৭ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নে ব্রিজ সচলের দাবিতে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজের খবর পাওয়া গেছে।
জেলা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিএসবি), ডিজিএফআই প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতেই ব্রীজের চেইনেজ ও এপ্রোচ রোডসহ অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার দাবির আড়ালে নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালানোর উদ্দেশ্যে একটি চক্র এই ‘মানববন্ধন নাটক’ করেছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
শুক্রবার ( ৮ মে ) বিকেলের দিকে (নিন্দাপাড়া) বালিয়াবাঁধা এলাকার আলহাজ্ব কাজী গোলাম হোসেন রোডের বৈকণ্ঠপুর নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজের চেইনেজ ও এপ্রোচ রোডের কাজ দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করার দাবি সম্বলিত ব্যানার হাতে সীমিত সংখ্যক লোকের উপস্থিতিতে ওই সাজানো মানববন্ধনটি হয়।
শুধু তাই নয়, উদ্দেশ্যমূলক ওই মানববন্ধনে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সভাপতিত্ব করতে ও বক্তব্য রাখতেও দেখা গেছে। এদের মধ্যে সিংজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল কাদের মিয়া সভাপতির দায়িত্বে, আর সাবেক ইউপি সদস্য মো. আকতার হোসেন মন্ডল ও সিংজুরী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম রফিককে বক্তব্য রাখতে দেখা যায়।
মানববন্ধনে অনুপস্থিত এলাকাবাসীদের একটি অংশ নাম প্রকাশ না করা শর্তে ভোরের কাগজকে জানান, প্রশাসন ব্রিজের টপ টু বটম কাজ সম্পন্ন করার জন্য একবারেই একটি নির্দিষ্ট বাজেট দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু মূল ঠিকাদার ব্রিজের বাকি কাজ সম্পন্ন করার জন্য সাব-ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছেন। এই সাব-ঠিকাদার ড্রেজারের মাধ্যমে নদী থেকে বালু উত্তোলনের করে কাজ সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে নিজস্ব কিছু লোকজনের মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক লোকজনের উপস্থিতিতে এই মানববন্ধন করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন।
যে কোন জনস্বার্থে মানববন্ধন মানেই জনসাধারণের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ। কিন্তু এই মানববন্ধনে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি ছিল একেবারেই নগণ্য।
চেইনেজ ও এপ্রোচের মাটি সংগ্রহের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে নদীতে ড্রেজার বসানোর পাঁয়তারায় একটি মহল মরিয়া হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসী অবশ্যই ব্রিজের কাজ দ্রুত সম্পন্ন দেখতে চায়। কিন্তু সেটি অবশ্যই নদীর বালু উত্তোলনের মাধ্যমে নয়। এই ব্রিজের আশেপাশে ড্রেজার বসালে দুইপাড়ের ফসলী জমির অস্তিত্ব থাকবে না। ঠিকাদার কোথায় থেকে মাটি এনে ব্রিজের কাজ সম্পন্ন করবে সেটি নিতান্তই তার ব্যক্তিগত বিষয়।
কতিপয় লোক, ঠিকাদারের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের পাঁয়তারায় লিপ্ত রয়েছেন। ইতোমধ্যেই ব্রিজের পাশে দুটি ড্রেজার মেশিন এনে রেখে দিয়েছেন ঠিকাদারের কাছের কয়েকজন। নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হলে ওই এলাকার বৃহত্তর জনগোষ্ঠী মাটি উত্তোলন বন্ধে পুনরায় মানববন্ধন করবেন বলে হুশিয়ারি দেন তারা।
তবে, স্থানীয় এলাকাবাসীর ক্ষোভ গোনায় না নিয়ে, ওই সাজানো মানববন্ধনে বিএনপি নেতাদেরকে ব্রিজের চেইনেজ, এপ্রোচ সড়ক ইত্যাদি কাজ সম্পন্ন করার দাবিতে জোরোলো বক্তব্য দিতে দেখা যায়।
