ডি মাজেন্ড গির্জায় ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৩
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর ভাটারা থানাধীন ডি মাজেন্ড গির্জায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর দস্যুতার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করেছে ভাটারা থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আবুল হোসেন রতন ওরফে হাবু (৩৬), মোহাম্মদ নিজাম ওরফে মিজান (৩৭), আক্তার হোসেন মনা ওরফে মনির (৩৮)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এম তানভীর আহমেদ জানান, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ০২:৩০ ঘটিকায় রাজধানীর ভাটারা থানাধীন ডি মাজেন্ড গির্জায় এক দুঃসাহসিক দস্যুতার ঘটনা ঘটে। মাস্ক পরিহিত দুই জন দুষ্কৃতিকারী গির্জার সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে এবং প্রথমেই স্টাফদের থাকার কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়। এরপর তারা গির্জার পরিচালক ফাদার সুবাস পুলক গমেজের অফিস কক্ষের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢোকে। সেখানে ফাদারকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে জিম্মি করে আলমারি থেকে নগদ আড়াই লক্ষ টাকা, একটি পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র লুট করে। পরবর্তীতে বাইরে অপেক্ষমাণ অপর এক সহযোগীর সহায়তায় একটি ব্যাটারি চালিত রিকশায় করে তারা পালিয়ে যায়।
ঘটনাটি তদন্তে ভাটারা থানার একটি চৌকস আভিযানিক টিম মাঠে নামে। পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ শুরু করে। ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, দস্যুতা চলাকালীন গির্জার পাশে একটি ব্যাটারি চালিত রিকশা সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিল।
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ভাটারা ও আশপাশের থানাগুলোর কয়েক হাজার রিকশা এবং চালকের তথ্য সংগ্রহ করে। রাজধানীর বিভিন্ন রিকশা গ্যারেজ এবং চালকদের প্রোফাইল যাচাই-বাছাই শেষে 'আক্তার হোসেন মনা' নামক এক রিকশাচালককে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তি, গোয়েন্দা সোর্সের খবর এবং অপরাধীদের 'মডাস অপারেন্ডি' (অপরাধের ধরন) বিশ্লেষণ করে দস্যুতার সাথে সরাসরি জড়িত তিন জনকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পরবর্তীতে ভাটারা থানার আভিযানিক টিম মুগদা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে প্রথমে আক্তার হোসেন মনা ওরফে মনিরকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার হেফাজত হতে দস্যুতার ঘটনায় ব্যবহৃত ব্যাটারি চালিত রিকশা এবং লুণ্ঠিত নগদ ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত মনিরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতির চরাঞ্চলের একটি প্রত্যন্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ নিজাম ওরফে মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার কাছ থেকে লুণ্ঠিত নগদ ৪৮,০০০/- টাকা উদ্ধার করা হয়।
সবশেষে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দস্যুতার ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী আবুল হোসেন রতন ওরফে হাবুকে খিলক্ষেত থানাধীন আমতলা এলাকা হতে গ্রেপ্তার করা হয়। তার হেফাজত হতে লুণ্ঠিত ১টি পাসপোর্ট, ১টি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নগদ এক লক্ষ টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে চক্রের মূল হোতা আবুল হোসেন হাবুর বিরুদ্ধে রাজধানীর খিলক্ষেত থানাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ৮টি মামলা রয়েছে। এছাড়া নিজামের বিরুদ্ধে লালমাই থানায় ১টি দস্যুতার এবং মনার বিরুদ্ধে হালিশহর থানায় ১টি মাদক মামলা রয়েছে। মূলত মাদক ও অনলাইন জুয়ার টাকার যোগান দিতেই তারা রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও দস্যুতার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলো।
