মুগদায় খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার
নিহতের পরিচয় ও হত্যার কারণ জানালো র্যাব
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ১১:২৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মুগদায় একটি বাড়ির বেজমেন্ট থেকে পলিথিনে মোড়ানো ৭ টুকরো খণ্ডিত মরদেহ ও পরে উদ্ধার হওয়া মাথাটি সৌদি প্রবাসী মুকাররমের বলে জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
সোমবার (১৮ মে) র্যাব ৩ এর উপ-পরিচালক স্কোয়াডন লিডার সাইদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, পরকীয়া প্রেমিকা ও তার বান্ধবীর হাতে খুন হয়েছেন সৌদি প্রবাসী মুকাররম। পাঁচ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করে পরকীয়া প্রেমিকা ও বান্ধবী মিলে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এরপর মরদেহ ৮ টুকরো করে ময়লার মধ্যে ফেলে দেয়।
এর আগে রোববার (১৭ মে) বিকেলে রাজধানীর মুগদা এলাকার মান্ডা আবদুল গনি রোডের একটি বাড়ির নিচ থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মাথাবিহীন খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর পাশের এলাকা থেকে মাথার অংশও উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মাথা ও দেহের খণ্ডিতাংশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাশ পাওয়া গেছে, মাথা, হাত আর পা সব টুকরো করা হয়েছে। মনে হয় দূরের কোনো লাশ এখানে ফেলে দিয়ে গেছে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে র্যাবের অভিযানে আটক করা হয় বলে জানা গেছে। আটক ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে পরে মধ্যরাতে পার্শ্ববর্তী মানিকনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিহত ব্যক্তির মাথার অংশও উদ্ধার করা হয়।
মুগদা থানার উপ-পরিদর্শক অনুপ বিশ্বাস জানান, মামুনের বাড়ির পাশের এবং ৫৭ নম্বর বাড়ির গলির ভেতর থেকে মাথার অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি একজন পুরুষের। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর পরিচয় গোপন ও আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতকারীরা শরীরটি টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও আলামত বিশ্লেষণ করে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে।
মুগদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জালাল উদ্দিন জানান, মান্ডা প্রথম গলির আব্দুল করিম রোডের ২৬০/১ নম্বর ‘শাহনাজ ভিলা’র বেজমেন্ট থেকে প্রথমে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সেখানে সাতটি খণ্ডে দেহটি পাওয়া যায়। তবে ওই সময় মাথা পাওয়া যায়নি। পরে পাশের ময়লার স্তূপে তল্লাশি চালিয়ে মাথাটি উদ্ধার করা হয়। দেহটি পচাগলা অবস্থায় ছিল এবং পেট থেকে ভুঁড়ি বেরিয়ে আসছিল।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, আনুমানিক ছয় দিন আগে ওই ব্যক্তিকে অন্য কোথাও হত্যার পর টুকরো টুকরো করে পলিথিনে ভরে বাড়িটির বেজমেন্ট ও পাশের ময়লার স্তূপে ফেলে রেখে গেছে খুনিরা।
