ঘুম কম হলে শিশুর যেসব ক্ষতি হয়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মন ও শরীরকে সতেজ করার জন্য একটি আরামদায়ক ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালোভাবে ঘুমালে শারীরিক, মানসিক এবং আবেগিক স্বাস্থ্য ভারসাম্যপূর্ণ থাকে। যদিও ঘুম সব সমস্যার সমাধান নয়, তবে এটি শরীরকে দ্রুত পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে। শিশুদের ক্ষেত্রেও সার্বিক বৃদ্ধি ও বিকাশে গভীর ঘুম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ঘুম শুধু শরীরকে পুনরুদ্ধার করে না, বরং মস্তিষ্কের বৃদ্ধি ও বিকাশেও সহায়তা করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অপর্যাপ্ত ঘুম শিশুদের মানসিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পর্যাপ্ত ঘুম না পেলে শিশু ক্লান্ত থাকে, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয় এবং নতুন তথ্য মনে রাখতে সমস্যা হয়। ‘পেডিয়াট্রিক্স’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় শিশুদের বিভিন্ন বয়সের মধ্যে ঘুমের ঘাটতির প্রবণতা উল্লেখ করা হয়েছে।
অপর্যাপ্ত ঘুম শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব
ঘুমের অভাব থাকলে শিশুদের আবেগগত ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তারা খিটখিটে ও সহজেই উত্তেজিত হয়ে পড়ে। মস্তিষ্কের যে অংশ আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে, ঘুমের অভাবে তার কার্যকারিতা ব্যাহত হয়। ফলে শিশুরা মানসিক চাপ সামলাতে পারে না এবং উদ্বেগ বা বিষণ্ণতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় প্রভাব
অপর্যাপ্ত ঘুম শিশুদের মনোযোগ, একাগ্রতা ও স্মৃতিশক্তিকে দুর্বল করে। পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও কমে যায়। স্কুলে যাওয়া শিশুদের ক্লাসে মনোযোগ দিতে ও তথ্য মনে রাখতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সামাজিক বিকাশে প্রভাব
ঘুমের ঘাটতি শিশুর সামাজিক বিকাশেও বাধা সৃষ্টি করে। অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা ও যোগাযোগে সমস্যা দেখা দেয়, যার ফলে ভুল বোঝাবুঝি ও আচরণগত সমস্যা তৈরি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই আচরণ মনোযোগ ঘাটতিজনিত সমস্যার মতোও মনে হতে পারে।
শিশুদের ভালো ঘুমে সহায়তার উপায়
বাবা–মায়েরা শিশুর জন্য ঘুমানোর আগে নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করতে পারেন। যেমন ঘুমের আগে স্ক্রিন ব্যবহার কমানো, দিনের বেলায় শারীরিক কার্যকলাপ বাড়ানো এবং আরামদায়ক ঘুমের পরিবেশ তৈরি করা। রাতে অতিরিক্ত কান্না, খিটখিটে মেজাজ ও দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব—এসব ঘুমের অভাবের লক্ষণ হতে পারে, যা চিকিৎসা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা উচিত।
