বন্ধুকে হত্যা করল অপর বন্ধু
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মানিকগঞ্জের ঘিওরে একজন অটোরিকশা চালক বন্ধুর গলা কেটে অপর মাদকাসক্ত বন্ধুরা হত্যা করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, গাঁজা খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মাদকাসক্ত এক বন্ধু অপর বন্ধুকে ডেকে নিয়ে দা দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। হত্যার পর নিহতের মাথা-শরীর বিচ্ছিন্ন করে মানিকগঞ্জের কালীগঙ্গা নদীতে নিক্ষেপ করা হয়।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্রে জানা যায়, ২৪ মার্চ রাতে ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী গ্রামের অটোরিকশা চালক রফিককে গাঁজা সেবনের কথা বলে নির্মাণ শ্রমিক রিপন, সজিব ও আরমান ডেকে নিয়ে যায়। অন্য একটি অটোরিকশায় করে তারা তাকে নিয়ে সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের পাছবারইল এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর হঠাৎই পাল্টে যায় দৃশ্যপট।
পিবিআই জানায়, প্রথম আঘাতটি আসে আরমানের হাত থেকে। হাতুড়ির আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রফিক। রিপন দা দিয়ে রফিকের গলা কেটে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করেন। এ সময় আরমান ও সজিব রফিকের হাত ও পা চেপে ধরে রাখেন। হত্যার পরও থামেনি তাদের নিষ্ঠুরতা। প্রমাণ গোপনের চেষ্টায় মাথা ও শরীরের অংশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। কিন্তু শরীর ভেসে ওঠায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তারা। এরপর পেট কেটে নদীতীরে ফেলে রেখে যায়। ঘটনার পর ভোররাতে রফিকের অটোরিকশা নিয়ে রিপন সাভারের দিকে পালিয়ে যান।
২৫ মার্চ বিকালে কালীগঙ্গা নদী থেকে গলাকাটা লাশ উদ্ধার হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরপরই ঘটনা অনুসন্ধানে মাঠে নামে পিবিআই। মাত্র ২৪ ঘণ্টার অভিযানে প্রযুক্তির সহায়তায় ধামরাই উপজেলার কালামপুর বাজার এলাকা থেকে ঘাতক সদস্য রিপন, আরমান ও সবুজকে আটক করা হয়।
পিআইবির জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা এই রোমহষর্ক বর্ণনা দেন বলে পিআইবি সূত্রে জানা যায়।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে মানিকগঞ্জ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী পিবিআই অফিসে এ লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেন। নেপথ্য কারণ উদ্ঘাটন নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে ভুক্তভোগীকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
