ক্ষতিগ্রস্ত শত শত কৃষক
খাল দখলে বন্ধ পানি নিষ্কাশন, তলিয়ে গেল ধানক্ষেত
মোহাম্মদ জাকির হোসেন, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
ছবি: কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পানান বিলে পানির নিচে তলিয়ে গেছে বোরো ধান
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে আগাম ভারী বর্ষণে পানান বিলের বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাকা ধান ঘরে তোলার অপেক্ষায় থাকা কৃষকদের সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে কয়েক দিনের ব্যবধানে।
সম্প্রতি চৈত্রের শেষ ও বৈশাখের শুরুতে টানা বৃষ্টিতে কয়েকশ একর জমির বোরো ধান ডুবে যায়। এক ফসলি জমি হওয়ায় কৃষকদের ছয় মাসের শ্রম, বিনিয়োগ ও বছরের খাদ্যের আশা একসঙ্গে ভেসে গেছে। এতে এলাকায় নেমে এসেছে হতাশা আর হাহাকার।
কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন, পানান বিলের সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলো দিয়ে পানি প্রবেশের পথ থাকলেও নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রভাবশালী মহল বারইখালি খালে বাঁধ দিয়ে ফিশারি স্থাপন করায় পানি বের হতে পারছে না বলে দাবি তাদের।
গোবিন্দপুর ইউনিয়নের গাংগাটিয়া এলাকার পানান বিলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অন্তত কয়েকশ কৃষক এ ক্ষতির শিকার হয়েছেন। কৃষকেরা সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। তারা বলেন, পানি নিষ্কাশনের পথ খুলে না দিলে প্রতিবছরই এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
জেলা পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, “বারইখালি খাল অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে পুনঃখনন ছাড়া এর কোনো বিকল্প নেই। এ কাজে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মহসীন জানান, এ বিলে হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ সদর ও ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কৃষকদের জমি রয়েছে। এর মধ্যে হোসেনপুর উপজেলার দুই শতাধিক কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের বিভাগ থেকে সাধারণত সরাসরি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় না, প্রণোদনা দেওয়া হয়ে থাকে। তবে এটি এক ফসলি জমি হওয়ায় কৃষকেরা সেই সুবিধাও নাও পেতে পারেন।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “খাল পুনরুদ্ধারের বিষয়ে কৃষি অফিসারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
