চরভদ্রাসনে কালবৈশাখীর আঘাত, কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস
আসলাম বেপারী, চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে আঘাত হানা প্রবল কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শুরু হওয়া এই ঝড়ে উপজেলার সদর ও গাজীরটেক ইউনিয়নে ১৩টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি, কলাবাগান ও ভুট্টাক্ষেতসহ বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হয়েছে। গাছপালা উপড়ে এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানাজায়, ঝড়ে সদর ইউনিয়নে ১১টি এবং গাজীরটেক ইউনিয়নে ২টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের তীব্রতায় মোহাম্মদ শাহিনের নির্মাণাধীন বেসরকারি মাদ্রাসা ‘আল জামিয়াতুস সালাফিয়া ইয়াফিয়াহ্’ মাটির সাথে মিশে গেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও এখনো কোনো সরকারি সহায়তা তারা পায়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান বিন ইসলাম জানান, ঝড়ে প্রায় ৩০ হেক্টর কলাবাগান ও ৪০ হেক্টর ভুট্টাক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে অনেক ফসলি জমি আংশিক ও পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
ঝড়ের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। চরভদ্রাসন সাব জোনাল বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম মো. এনায়েত হোসেন জানান, বিভিন্ন স্থানে ১০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে, ১১২টি স্পটে তার ছিঁড়েছে এবং ৯৫টি মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ জানান, ঝড়ের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ঢেউটিন ও শুকনা খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “বুধবার ও বৃহস্পতিবার মিলে মোট চার বান্ডেল ঢেউটিন প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্তদের চেকের মাধ্যমে অর্থ, ঢেউটিন ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।”
ইতোমধ্যে সরকারি সহায়তা পেয়েছেন এইচ এম জাহাঙ্গীর আলম, জোসনা মৃধা ও কামাল খান। তাদের মধ্যে কামাল খান দুই বান্ডেল ঢেউটিন ও শুকনা খাবার হাতে পেয়ে প্রশাসন ও স্থানীয় চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
সদর ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ খান ও গাজীরটেক ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী জানিয়েছেন, তারা নিজ নিজ ইউনিয়নের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিসে পাঠিয়েছেন এবং ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছেন।
