২০২৬ বিশ্বকাপে যাদের দেখা যেতে পারে শেষবার
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
ফাইল ছবি
বিশ্বকাপ মানেই যেমন নতুন তারকার ক্ষিপ্র উত্থান, তেমনি চেনা কিছু পুরোনো মুখের বিদায়ের মঞ্চও। উত্তর আমেরিকার মাটিতে বসতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপ সেই অর্থে অন্য যে কোনো আসরের চেয়ে অনেক বেশি আবেগী ও তাৎপর্যপূর্ণ হতে যাচ্ছে। কারণ, ফুটবল রোমান্টিকরা হয়তো এবারই শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে একসঙ্গে দেখতে পাবেন এমন কিছু কিংবদন্তিকে, যারা গত দেড় দশক ধরে ফুটবল খেলার ভাষা আর সংজ্ঞাটাই বদলে দিয়েছেন।
লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, নেইমার কিংবা লুকা মদরিচ—নামগুলো এখন আর কেবল কোনো ফুটবলারের নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের একেকটি অনন্য অধ্যায়ের প্রতীক। তাদের সঙ্গে এই তালিকায় যুক্ত আছেন কেভিন ডি ব্রুইনা, মোহাম্মদ সালাহ, সাদিও মানে, সন হিউং-মিন, ভার্জিল ফন ডাইক কিংবা হামেস রদ্রিগেজের মতো মহাতারকারাও। ২০৩০ বিশ্বকাপের সময় এই প্রজন্মের সিংহভাগ ফুটবলারই বুটজোড়া তুলে রাখবেন কিংবা আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অনেকটাই দূরে সরে যাবেন। তাই এই বিশ্বকাপ তাদের জন্য স্রেফ আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়; বরং এক সোনালি প্রজন্মের ‘লাস্ট ড্যান্স’ বা শেষ সমবেত মঞ্চ।
মেসি-রোনালদোর মহাকাব্যিক সমাপ্তি
পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্ষেত্রে বিদায়ের সুরটা সবচেয়ে স্পষ্ট। ৪১ বছর বয়সে নিজের রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে নামা এই কিংবদন্তি আগেই আভাস দিয়েছেন, এটাই তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বমঞ্চ। ইউরো, চ্যাম্পিয়নস লিগ, ব্যালর ডি’অর কিংবা আন্তর্জাতিক ফুটবলের গোলের পাহাড়—সবই রয়েছে তার শোকেসে; শুধু আক্ষেপের নাম সেই সোনালি বিশ্বকাপ ট্রফি। তাই ২০২৬ আসর রোনালদোর কাছে ব্যক্তিগত অপূর্ণতা ঘোচানোর শেষ সুযোগ।
অন্যদিকে লিওনেল মেসির গল্পটা কিছুটা ভিন্ন। ২০২২ সালে কাতারের মরূদ্যানে সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরে নিজের ফুটবল মহাকাব্য ইতিমধ্যেই পূর্ণ করেছেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। বয়স ৩৯ ছুঁইছুঁই হলেও আলবিসেলেস্তেদের হৃদস্পন্দন এখনো মেসিই। আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায়ের কথা না বললেও বাস্তবতার নিরিখে ২০৩০ বিশ্বকাপে মেসিকে দেখার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তাই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর এই যৌথ আসর মেসি-ভক্তদের জন্য এক চরম আবেগের নাম।
চোটের সঙ্গে নেইমারের যুদ্ধ ও মদরিচের শেষ ছন্দ
নেইমার জুনিয়র এখনও মেসি-রোনালদোর চেয়ে বয়সে ছোট হলেও চোট তার ক্যারিয়ারের গতিপথ বারবার থমকে দিয়েছে। সেলেসাওদের এই সর্বোচ্চ গোলদাতা দীর্ঘ বিরতি ও পুনর্বাসন শেষে আবারও বিশ্বকাপ ভাবনায় ফিরেছেন। তবে ২০৩০ বিশ্বকাপের সময় তার বয়স হবে ৩৮। শারীরিক সক্ষমতা ও ব্রাজিলের নতুন প্রজন্মের উত্থান বিবেচনা করলে ২০২৬ বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে বিশ্বমঞ্চে নেইমারের শেষ ছোঁয়া।
লুকা মদরিচের ক্ষেত্রে এই আবেগ আরও তীব্র। ক্রোয়েশিয়াকে ২০১৮ সালের ফাইনালে তোলা এবং ২০২২ সালে তৃতীয় করার পেছনের এই মূল কারিগর ৪০ বছর বয়সেও দলের মাঝমাঠের প্রধান ভরসা। তবে সময়ের অমোঘ নিয়ম মানতেই হবে; উত্তর আমেরিকার এই আসরই হতে যাচ্ছে ক্রোয়াট জার্সিতে বিশ্বমঞ্চকে নিজের ছন্দে নাচানোর তাঁর শেষ সুযোগ।
অপূর্ণতা ঘোচানোর লড়াইয়ে অন্য নক্ষত্র
এই বিদায়ের তালিকায় অবধারিতভাবেই থাকছেন বেলজিয়ামের ‘সোনালি প্রজন্ম’র সেরা প্রতিনিধি কেভিন ডি ব্রুইনা। ক্লাব ফুটবলে সব জিতলেও জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো শিরোপা এখনো তার অধরা। বয়স ও চোটপ্রবণতার কারণে এটাই হয়তো তার শেষ সুযোগ।
লিভারপুল কিংবদন্তি মোহাম্মদ সালাহর গল্পটাও অসম্পূর্ণতার। মিসরের হয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে তার স্মৃতি মোটেও সুখকর নয়; ২০১৮ সালের চোটের আক্ষেপ ভুলে এবারই তার সামনে সুযোগ ফারাওদের হয়ে বিশ্বমঞ্চে বড় কিছু করে দেখানোর। এ ছাড়া সাদিও মানে (সেনেগাল), সন হিউং-মিন (দক্ষিণ কোরিয়া), ভার্জিল ফন ডাইক (নেদারল্যান্ডস) এবং হামেস রদ্রিগেজ (কলম্বিয়া) প্রত্যেকেই নিজ নিজ দেশের জাতীয় প্রতীক। ২০৩০ বিশ্বকাপের সুদূর পথ পাড়ি দেওয়া তাদের জন্য অলীক কল্পনা।
৪৮ দলের বর্ধিত কলেবরের এই নতুন ফরম্যাটের বিশ্বকাপ তাই কোনো সাধারণ টুর্নামেন্ট নয়; এটি এক অবিস্মরণীয় প্রজন্মের শেষ বিদায়ি কুর্নিশ। টুর্নামেন্ট শেষে কে বুটজোড়া তুলে রাখবেন আর কে খেলা চালিয়ে যাবেন, তা সময় বলে দেবে।
