ব্রাজিলের ‘হুমকি’ ও মরক্কোর দুর্বলতা যেখানে...
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে গতকাল দিবাগত রাতে নরওয়ের মুখোমুখি হয়েছে মরক্কো। ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিট দেখলে আফ্রিকান দলটিকে যে কোনো প্রতিপক্ষই সমীহের চোখে দেখতে বাধ্য। উচ্চগতির প্রেসিং, দ্রুত আক্রমণ বদল এবং গ্যালারিভর্তি সমর্থকদের উন্মাদনায় নরওয়েকে প্রায় শ্বাস নেওয়ার সুযোগই দেয়নি গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা। কিন্তু ম্যাচ যত গড়িয়েছে, ততই তাদের দুর্বলতাগুলো সামনে এসেছে। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্রয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় মরক্কোকে।
আগামী শনিবার বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। ম্যাচটি নিয়ে এখন থেকেই উত্তাপ ছড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব ফুটবলে শক্তি হয়ে ওঠা মরক্কো পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে চমকে দিতে পারে বলেও মত অনেকের। অবশ্য হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটির আগে নরওয়ের বিপক্ষে মরক্কোর পারফরম্যান্স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দলটি আক্রমণে ভয়ঙ্কর হলেও রক্ষণে এখনো বেশ কিছু দুর্বলতা রয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই মরক্কো তাদের পরিচিত আগ্রাসী ফুটবলটাই খেলেছে। লম্বা বল, উচ্চ প্রেসিং এবং দ্রুত বল দখলের মাধ্যমে নরওয়েকে নিজেদের অর্ধেই আটকে রেখেছিল। ব্রাহিম দিয়াজ, আজেদিন উনাহি, আবদে এজ্জালজৌলি ও সাইবারির সমন্বয়ে গড়া আক্রমণভাগ প্রথম ২০ মিনিটে একের পর এক সুযোগ তৈরি করে। সেই সময়ে গোলও পায় মরক্কো। তবে ম্যাচের মাঝামাঝি সময় থেকেই বদলে যেতে থাকে চিত্র। শুরুতে যে তীব্র প্রেসিং ছিল, তা ধীরে ধীরে কমে যায়। মরক্কো নিচে নেমে রক্ষণ সামলাতে শুরু করে এবং বলের দখল ছেড়ে দেয় নরওয়েকে।
এখানেই সামনে আসে তাদের বড় দুর্বলতা। রক্ষণ ও মিডফিল্ডের মাঝখানে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বক্সের সামনের অংশে বারবার ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়, যা কাজে লাগিয়ে একাধিক দূরপাল্লার শট নেয় নরওয়ে। এমনই একটি আক্রমণ থেকে মার্টিন ওদেগার্ড সমতাসূচক গোল করেন।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মরক্কো প্রায় পুরোপুরি নিজেদের অর্ধে সরে যায়। পাল্টা আক্রমণের ধারও কমে যায় উল্লেখযোগ্যভাবে। ফলে শেষ ৩০ মিনিটে নরওয়েই ছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রক দল। এমনকি শেষ দিকে জয়সূচক গোলের কাছাকাছিও পৌঁছে গিয়েছিল তারা।
মরক্কোর শক্তির অন্যতম উৎস তাদের সমর্থকরা। নিউ জার্সির স্টেডিয়াম প্রায় পুরোপুরি দখল করে নেওয়া মরক্কান দর্শকরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দলকে উজ্জ্বীবিত রেখেছে। ব্রাজিলের বিপক্ষেও একই ধরনের পরিবেশের মুখোমুখি হতে হবে কার্লো আনচেলত্তির দলকে। যদিও সেলেসাও সমর্থকরাও থাকবে গ্যালারিতে।
ব্রাজিলের জন্য বার্তাটা পরিষ্কার। মরক্কোর আক্রমণভাগ, বিশেষ করে ব্রাহিম দিয়াজ ও আশরাফ হাকিমির ডান প্রান্তের সমন্বয় খুবই বিপজ্জনক। ম্যাচের শুরুতে তাদের চাপ সামলাতে না পারলে বিপদে পড়তে পারে ব্রাজিল।অন্যদিকে মরক্কোর রক্ষণে যে ফাঁকফোকর রয়েছে, বিশেষ করে বক্সের সামনের অঞ্চল রক্ষায় দুর্বলতা, তা কাজে লাগানোর সুযোগও রয়েছে। ব্রাজিলের মিডফিল্ডারদের দূরপাল্লার শট এবং দ্রুত পাসের সমন্বয় মরক্কোর জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
