×

ভারত

কোরিয়ান ড্রামা না বাবার দুই কোটির ঋণ, তিন বোনের মৃত্যুর নেপথ্যে কী

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম

কোরিয়ান ড্রামা না বাবার দুই কোটির ঋণ, তিন বোনের মৃত্যুর নেপথ্যে কী

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে তিন বোনের আত্মহত্যার ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পারিবারিক আর্থিক সংকট, অনলাইন জগত ও কোরিয়ান সংস্কৃতির প্রতি গভীর আসক্তি সব মিলিয়ে একটি জটিল পরিস্থিতির ইঙ্গিত মিলেছে তদন্তে।

পুলিশ জানায়, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিহত তিন বোন নিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) ও পাখি (১২) একটি নয়তলা ভবন থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করে। তাদের বাবা চেতন কুমার পেশায় একজন স্টক ট্রেডার। তিনি দুই বিয়ে করেছেন। তার দুই স্ত্রী সম্পর্কে সহোদরা। প্রথম স্ত্রীর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর তিন মেয়ে, যারা আত্নহত্যা করেছে। প্রথম বিয়ের ১৭ বছর পর তিনি শ্যালিকাকে বিয়ে করেন।

তদন্তে জানা গেছে, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে ভুগছিল। প্রায় দুই কোটি রুপির ঋণের চাপে ছিলেন চেতন কুমার। এ ছাড়া প্রথম পক্ষের ছেলে সন্তান বুদ্ধি-প্রতিবন্ধকতাসম্পন্ন হওয়ায় মানসিক চাপও ছিল পরিবারে। অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে গত দুই বছর ধরে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ ছিল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিন বোন কোরিয়ান সংস্কৃতি বিশেষ করে কে-ড্রামা ও কে-পপ এবং অনলাইন জগতের প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ছিল। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মারিয়া, আলিজা ও সিন্ডি নামে কোরিয়ান পরিচয়ে একটি অ্যাকাউন্ট চালাত। যেখানে তাদের বিপুল সংখ্যক অনুসারীও ছিল।

প্রায় ১০ দিন আগে তাদের বাবা বিষয়টি জানতে পেরে ওই অ্যাকাউন্ট মুছে দেন এবং মেয়েদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। পরে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য ফোনগুলো বিক্রি করে দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনার পর থেকেই মেয়েরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল।

পুলিশ আরো জানায়, বাবা মেয়েদের দ্রুত ভারতীয় ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। কিন্তু মেয়েরা জানিয়েছিল, তারা নিজেদের ভারতীয় নয়, কোরিয়ান মনে করে এবং ভারতে বিয়ে করতে চায় না।

ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট ও ডায়েরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। সুইসাইড নোটে লেখা ছিল, ‘কোরিয়াই আমাদের জীবন। তবুও তুমি কীভাবে বললে আমাদের জীবন ছেড়ে দিতে? তোমরা জানতে না আমরা তাদের কতটা ভালোবাসতাম। এখন তার প্রমাণ দেখে নাও। আমরা নিশ্চিত, কোরিয়ান এবং কে-পপই আমাদের জীবন ছিল। আমরা তোমাকে বা পরিবারকে ততটা ভালোবাসিনি, যতটা ওই কোরিয়ান অভিনেতা এবং কে-পপ গ্রুপকে ভালোবাসতাম।’ নোটটির শেষে হাতে আঁকা একটি কান্নার ইমোজিও ছিল।

আরো পড়ুন : অনলাইনে গেম খেলতে না দেয়ায় ১০তলা থেকে ৩ বোনের একসঙ্গে ঝাঁপ

ডায়েরির আট পৃষ্ঠাজুড়ে তাদের গেম খেলা, কে-ড্রামা ও কে-পপের প্রতি আগ্রহ এবং মোবাইল ব্যবহারের বিষয়গুলো লেখা ছিল। সেখানে বাবার ওপর ক্ষোভের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ডায়েরিতে তারা লিখেছে, কোরিয়ান সংস্কৃতি তাদের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছিল এবং সেটি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি তারা মেনে নিতে পারেনি।

প্রাথমিকভাবে বাবা দাবি করেছিলেন, মেয়েরা একটি টাস্কভিত্তিক কোরিয়ান গেম খেলত যার শেষ ধাপ ছিল আত্মহনন। তবে পুলিশ পরে জানিয়েছে, গেমের বিষয়টি সত্য নয়। তাদের মৃত্যুর পেছনে কোরিয়ান সংস্কৃতির প্রভাব থাকলেও সেটিই একমাত্র কারণ নয়; পারিবারিক ও মানসিক চাপের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

শ্রমিকদের কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত

চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিকদের কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত

তাইওয়ানকে অস্ত্র বেচলে বুঝেশুনে বেচতে হবে, ট্রাম্পকে বললেন শি জিনপিং

তাইওয়ানকে অস্ত্র বেচলে বুঝেশুনে বেচতে হবে, ট্রাম্পকে বললেন শি জিনপিং

আগামীকাল বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে যাচ্ছেন জামায়াত আমির

আগামীকাল বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে যাচ্ছেন জামায়াত আমির

হাসনাতের বিপক্ষে ট্রাককে সমর্থন দিলো বিএনপি

হাসনাতের বিপক্ষে ট্রাককে সমর্থন দিলো বিএনপি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App