হরমুজে মাইন বসালে নজিরবিহীন পরিণতির হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬, ১১:২২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালীতে ইরান মাইন বসাতে শুরু করেছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সিএনএন । এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।
মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সীমিত আকারে মাইন বসানো হয়েছে। গত কয়েক দিনে মাত্র কয়েকটি মাইন স্থাপন করা হয়েছে। তবে একটি সূত্রের দাবি, ইরানের হাতে এখনো ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষুদ্র যুদ্ধযান ও মাইন স্থাপনকারী জাহাজ অক্ষত রয়েছে। ফলে দেশটি চাইলে এ জলপথে শত শত মাইন ছড়িয়ে দিতে পারে।
ইরানেরইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বর্তমানে দেশটির নৌবাহিনীর পাশাপাশি এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের কাছে মাইন স্থাপনকারী যান, বিস্ফোরকবোঝাই নৌকা এবং উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে।
আরো পড়ুন: জ্বালানি সংকট: মার্কিন তেলের দিকে ঝুঁকছে এশিয়া
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসিয়ে থাকে, তবে সেগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়া উচিত। অন্যথায় ইরানকে ‘নজিরবিহীন’ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। তবে মাইন সরিয়ে নিলে তা হবে ‘সঠিক পথে বড় পদক্ষেপ’ বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
এর পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক্সে দেওয়া পোস্টে জানান, প্রেসিডেন্টের নির্দেশনায় ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিষ্ক্রিয় মাইন স্থাপনকারী জাহাজগুলো ধ্বংস করছে।
পরে সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করে, তারা ওই প্রণালির কাছে ১৬টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজসহ ইরানের কয়েকটি নৌযান ধ্বংস করেছে।
এর আগে আইআরজিসি সতর্ক করেছিল, এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী যেকোনো জাহাজে হামলা চালানো হতে পারে। ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর পর থেকে এই জলপথ কার্যত বন্ধ রয়েছে এবং ঝুঁকির কারণে অনেকেই একে ‘ডেথ ভ্যালি’ বা মৃত্যু উপত্যকা বলে উল্লেখ করছেন।
আরো পড়ুন: ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে বাড়বে খাদ্যের দাম, বেশি প্রভাব এশিয়ায়’
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী কোনো জাহাজকে এই প্রণালি দিয়ে পাহারা দিয়ে পার করে দেয়নি। তবে ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে এবং মাইন শনাক্ত করার জন্য তাদের কাছে বিশ্বের সেরা প্রযুক্তি রয়েছে।
