আইনশৃঙ্খলা অবনতি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি জামায়াত সেক্রেটারির
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১১:১৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন, খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, অথচ এসব নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।
বুধবার (২০ মে) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি এসব কথা বলেন। সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন সহিংস ঘটনার প্রতিবাদ এবং চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘একটি দলের নেতাকর্মীদের যৌন লালসার কারণে দেশের নারী ও শিশুর জীবন আজ হুমকির মুখে পড়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সময়ে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা এতটাই বেড়েছে যে, এতে বোঝা যায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এসব ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এর ফলে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সমাবেশে সাম্প্রতিক শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা পুরো জাতিকে ব্যথিত করেছে। তিনি দাবি করেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘রামিসা হত্যার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা সরকারের কোনো পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তির কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায় এড়িয়ে সরকার অতীতের ব্যর্থতার কথা বলে বর্তমান বাস্তবতা আড়াল করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে সরকারের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের বড় ব্যর্থতার দায়ে মন্ত্রীরা পদত্যাগ করেন। কিন্তু দেশে এর ব্যতিক্রম দেখা যায়। জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তা উপেক্ষা করা হলে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য নেতারাও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বলা হয়, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে অপরাধ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হয়ে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট, পল্টন মোড় ও বিজয়নগর এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দক্ষিণ গেটে এসে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা সারাদেশে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
