ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা
শেষ মুহূর্তেও অনিশ্চিত ইরান, ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও ইরানের জাতীয় পতাকা। ছবি: সংগৃহীত
ইসলামাবাদে হতে যাওয়া সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন যুদ্ধের মেঘ ও কূটনীতির জটিল সমীকরণ। আলোচনার সময় ঘনিয়ে এলেও তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও মেলেনি কোনো চূড়ান্ত সম্মতি। ইরানের এই রহস্যময় নীরবতা আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি মিলিয়ে গোটা বিশ্বের নজর এখন পাকিস্তান ও তেহরানের দিকে।
তেহরান থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরান কূটনীতির দরজা পুরোপুরি বন্ধ না করলেও পা ফেলছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘আলোচনায় যোগ দেওয়ার ব্যাপারে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’
তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সুর চড়িয়েছেন আরও এক ধাপ। তাঁর সাফ কথা, ইরান আলোচনার বিরোধী নয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো শর্ত চাপিয়ে দিলে তা মাথা পেতে নেওয়া হবে না। এমনকি প্রয়োজনে যুদ্ধের ময়দানে নামতেও তেহরান পিছপা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
আগামীকাল বুধবারই শেষ হচ্ছে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ। এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে তেহরানকে কড়া বার্তা দিয়ে রেখেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকি ইরানকে হয় আলোচনার টেবিলে বসতে হবে, নয়তো এমন ভয়াবহ হামলার মুখোমুখি হতে হবে যা তারা আগে ‘কখনও দেখেনি’। যদিও এক রেডিও সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন যে ইরান শেষ পর্যন্ত একটি ‘ন্যায্য চুক্তিতে’ আসবে। ট্রাম্পের স্পষ্ট শর্ত, ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি শেষ মুহূর্তে আলোচনার টেবিলে বসেও, সফল হওয়া হবে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। আলজাজিরার প্রতিবেদনেও সেই ইঙ্গিত মিলেছে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধের বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ এবং ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি উভয় পক্ষের বিরোধের তালিকাটা বেশ দীর্ঘ ও জটিল।
