ইরানি নৌবাহিনী কমান্ডার
এমন অস্ত্র বের করা হবে শত্রু পক্ষ দেখেই ‘হার্ট অ্যাটাক’ করবে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইরান খুব শিগগিরই এমন এক ধরনের অস্ত্র উন্মোচন করতে যাচ্ছে, যা দেখেই শত্রুপক্ষ ‘হার্ট অ্যাটাক’ করবে -এমন মন্তব্য করেছেন দেশটির নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
শাহরাম ইরানি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক উসকানিহীন আগ্রাসনের মাধ্যমে দ্রুত সাফল্য পাওয়া যাবে -শত্রুপক্ষের এমন ধারণা ছিল ভুল। তার ভাষায়, এ ধারণা এখন সামরিক একাডেমিগুলোতে হাস্যরসের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘আব্রাহাম লিংকন’-কে লক্ষ্য করে অন্তত সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওই রণতরী থেকে যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন বা কোনো আকাশ অভিযান পরিচালনা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইরানি আরও বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া আগ্রাসনের জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরাইলি সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত ১০০ দফা পাল্টা আঘাত হেনেছে।
তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র নৌ-ইউনিটভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ইরানের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এবং পরে আরও প্ল্যাটফর্ম যুক্ত করতে বাধ্য হয়। এ জন্য অতিরিক্ত ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করা হলেও তারা এখনও কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে।
প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী শত্রু ও তাদের মিত্রদের জাহাজের জন্য বন্ধ করে দেয়। পরে সেখানে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, ফলে জাহাজ চলাচল ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ইরানি দাবি করেন, আরব সাগরের দিক থেকেও প্রণালীটি কার্যত বন্ধ রাখা হয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রতিপক্ষ আরও এগিয়ে এলে বিলম্ব না করে অপারেশনাল পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কিছু ইরানি জাহাজ বন্দর ত্যাগ করেছে এবং কিছু গন্তব্যে পৌঁছেছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। কিছু ইরানি জাহাজ জব্দ করার ঘটনাকে তিনি ‘জলদস্যুতা’ ও ‘জিম্মি করা’ হিসেবে আখ্যা দেন। তার অভিযোগ, এসব ঘটনায় নাবিক ও তাদের পরিবারকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে।
শেষে তিনি বলেন, দেশের শহীদদের প্রতিশোধ নিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘রক্তের শেষ বিন্দু পর্যন্ত’ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তার ভাষায়, এমন আঘাত হানা হবে যা শত্রুপক্ষকে গভীর অনুশোচনায় ফেলবে।
