রাশিয়া থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পেতে যাচ্ছে তালেবান সরকার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
রাশিয়ার কাছ থেকে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামসহ বড় ধরনের সামরিক সহায়তা পেতে যাচ্ছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। দুই পক্ষের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই হয়েছে। ২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম কোনো আঞ্চলিক দেশের সঙ্গে সামরিক ও কারিগরি সহযোগিতা চুক্তি সই করলেন তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মস্কোতে অনুষ্ঠিত এই চুক্তি সই অনুষ্ঠানে রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সের্গেই শোইগু এবং তালেবানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ উপস্থিত ছিলেন। রাশিয়াকে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রদানে রাজি করানোর পেছনে ইয়াকুব মুজাহিদের সফল ভূমিকা ছিল। সূত্র জানায়, চুক্তিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থল সামরিক সরঞ্জাম এবং তালেবান বাহিনীকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এতে ড্রোনের মতো হামলার সরঞ্জাম আছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
কাবুলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা খাতে রাশিয়ার সঙ্গে তালেবানের বোঝাপড়া প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেল। গত মঙ্গলবার মস্কোতে একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াকুব মুজাহিদ। সেখানে সের্গেই শোইগুর সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন,'রাশিয়া বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আমাদের কাছে বিশেষ গুরুত্বের। আমরা আশা করি এই সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী হবে।'
কদিন আগেই প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতের সময় আকাশ প্রতিরক্ষা খাতে তালেবানের দুর্বলতা প্রকাশ পায়। এরপর থেকেই মূলত আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে তৎপর হয়ে ওঠে কাবুল।
২০২১ সালে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পর যেসব দেশ কাবুলে দূতাবাস বন্ধ করেনি, রাশিয়া তাদের অন্যতম। ২০২২ সালে তালেবান সরকারের সঙ্গে প্রথম আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চুক্তিও করে তারা, যার অধীনে আফগানিস্তানে তেল, গ্যাস ও গম সরবরাহ করছে মস্কো। কিছুদিন আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও বলেছিলেন, আফগানিস্তানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে কেউ সেখানে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। রাশিয়ার নিরাপত্তা উপদেষ্টা সের্গেই শোইগুও জানিয়েছেন, তার দেশ তালেবানের সঙ্গে ‘পূর্ণাঙ্গ অংশীদারিত্ব’ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।
অবশ্য রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলো আফগানিস্তানে জঙ্গি গোষ্ঠীর উপস্থিতি নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। জবাবে ইয়াকুব মুজাহিদ বলেন,'আমরা বিদ্রোহী নেটওয়ার্কগুলোকে দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছি।' তালেবান কর্মকর্তারাও বারবার আশ্বস্ত করেছেন, আফগানিস্তানের মাটি অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
সূত্র- বিবিসি বাংলা
