জিরা চাষে সফলতার পথে কুষ্টিয়ার কৃষকরা
নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া থেকে
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম
ছবি: কাগজ প্রতিবেদক
কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় কৃষক পর্যায়ে শুরু হয়েছে জিরার চাষাবাদ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় স্বল্প পরিসরে জিরার চাষ করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। ইতিমধ্যে কৃষকরা জমি থেকে জিরা তুলছেন। সেগুলো পরিস্কার করে ঘরে তোলার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। জিরার এমন ফলন দেখে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। জিরা চাষে সফলতার মুখ দেখবেন, এমনটি আশা করছেন তারা।
কৃষকদের জিরা চাষে আরো উৎসাহিত করতে মাঠ দিবস করেছে কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। মাঠ দিবসে কৃষকরা জিরা চাষের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেন এবং ফলন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সোমবার বেলা ৩ টার সময় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বাগডাঙ্গায় এই 'মাঠ দিবস' অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ‘বারি জিরা-১’ জাত কৃষকপর্যায়ে আরো জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
জিরা চাষে সফল কৃষকরা
জানা গেছে, মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী আকারে জিরার চাষাবাদ হয়েছে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায়। এখন শুধু গবেষণাগারেই নয়, কৃষক পর্যায়েও জেগেছে জিরা চাষে সম্ভাবনা। ফলে সাশ্রয় হবে বৈদেশিক মুদ্রা। আয় বাড়বে কৃষকের। কমবে আমদানি নির্ভরতা। কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদের উপযোগী বারি জিরা-১ নামে জাতটিকে জাতীয় বীজ বোর্ড-২০২২ সালে অনুমোদনও দিয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, জিরা একটি উচ্চমূল্যের মসলা ফসল। সঠিক পদ্ধতিতে চাষ করলে অল্প জমিতেই ভালো লাভ করা সম্ভব। পরীক্ষামূলকভাবে কুষ্টিয়ার কয়েকটি এলাকায় এ ফসলের আবাদ করা হয়েছে এবং ফলন আশাব্যঞ্জক হয়েছে।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই কর্মসূচির আওতায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা, বটতৈল, বরিয়া ভাদালিয়াপাড়া ও বেলঘরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ১৬ জন কৃষক প্রায় ৭ বিঘা জমিতে জিরা চাষ করেছে। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। অনেক কৃষক ইতিমধ্যে জমি থেকে জিরা তুলে এনেছেন। সেগুলো পরিস্কার করে ঘরে তোলার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. শওকত হোসেন ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উপজেলা কৃষি অফিসার রূপালী খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া খামারবাড়ির অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) ওয়াহিদুজ্জামান।
মাঠ দিবসে উপস্থিত কৃষকরা বলেন, “আগে আমরা মূলত ধান, গম ও অন্যান্য ফসল চাষ করতাম। এবার প্রথমবারের মতো জিরা চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি। বাজারে এর দামও ভালো, তাই আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে জিরা আবাদ করব।”
মাঠ দিবসে বক্তারা বলেন, জিরা একটি উচ্চমূল্যের মসলা জাতীয় ফসল। সঠিক প্রযুক্তি এবং উন্নত বীজ ব্যবহার করলে দেশের মাটিতেই মানসম্মত জিরা উৎপাদন সম্ভব। যা আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করবে। বিশেষ করে বারি জিরা-১ জাতটি এ অঞ্চলের আবহাওয়ায় আশাব্যঞ্জক ফলন দিচ্ছে বলে কৃষি কর্মকর্তারা জানান। অনুষ্ঠানে বল্লভপুর ব্লকের সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ এলাকার বিপুল সংখ্যক কৃষক ও কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন। প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শনের মাধ্যমে কৃষকরা জিরার আধুনিক চাষ পদ্ধতি, রোগবালাই দমন এবং ফসল সংগ্রহের বিষয়ে বাস্তব জ্ঞান লাভ করেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, কৃষকদের আয় বাড়াতে নতুন নতুন লাভজনক ফসল চাষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। জিরা চাষ সফল হলে ভবিষ্যতে কুষ্টিয়ার আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় এর আবাদ সম্প্রসারণ করা হবে।
কৃষি বিভাগ জানায়, বারি জিরা-১ জাতের জিরার গাছ লম্বায় ৪০-৫০ সেন্টিমিটার উচ্চতার হয়। এর পাতার রং গাঢ় সবুজ। ফুলের রং গোলাপি। বাজারে বিক্রি হওয়া জিরার চেয়ে বেশি সুগন্ধি। ভালোভাবে চাষ করলে প্রতি হেক্টর জমিতে ৫৫০ কেজি জিরার ফলন পাওয়া সম্ভব। মসলা জাতীয় ফসলের মধ্যে জিরা অন্যতম। জিরা শীতকালীন মসলা জাতীয় ফসল। দেশে যে পরিমাণ জিরার চাহিদা তার পুরোটাই আমদানি করতে হয়। অনেক গবেষণার ফলে মসলা গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা নিরলস প্রচেষ্টায় কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদের উপযোগী জিরার জাত আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন। কৃষক পর্যায়ে চাষ উপযোগী এ জাতের জিরার গাছ বেঁচে থাকে ১০৫-১১০ দিন পর্যন্ত।
