সাতক্ষীরায় পৃথক স্থান থেকে চিকিৎসক ও নৈশপ্রহরীর মরদেহ উদ্ধার
মসিউর ফিরোজ সাতক্ষীরা থেকে
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬, ০১:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরা শহরের পৃথক দুটি স্থান থেকে তরুণ চিকিৎসক ও এক নৈশপ্রহরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার ভোররাতে সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া ও রসুলপুর এলাকা থেকে ঝুলে থাকা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত মরাদেহের একজন তরুণ চিকিৎসক সজীব দত্ত (২৭)।শহরের কাটিয়া এলাকার তপন দত্তের ছোট ছেলে। অন্যজন আব্দুর রাজ্জাক (৪৮)। কলারোয়া উপজেলার রামভদ্রপুর গ্রামের শামসুদ্দীন সরদারের ছেলে। শহরের রসুলপুর এলাকায় ফাল্গুনি বস্ত্রালয়ের মালিকের বাড়ির কেয়ারটেকার ও নৈশপ্রহরী হিসেবে কাজ করতেন।
সজীবের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে কয়েকমাস আগে এফসিপিএস পড়তে লন্ডনে যান। গত সোমবার তিনি লন্ডন থেকে বাড়িতে বেড়াতে আসেন।
প্রতিবেশী উৎপল সাহা জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে সজীব তার ঘরে ঘুমাতে যান। বুধবার সকালে তার মা কাঞ্চন দত্ত পূজা দিতে ছেলের ঘরের দরজায় ধাক্কা দেন। এতে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি মারেন এবং ছেলেকে সিলিং ফ্যানের সাথে গামছা দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
তবে তার আত্মীয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে,লন্ডন থেকে ফিরে আসার পর তার মধ্যে মানসিক একটি অস্থিরতা দেখতে পাওয়া যায়। লন্ডনে তিনি তার বড় ভাইয়ের বাসাতে উঠেছিলেন।
ওদিকে, একই সময়ে শহরের কদমতলা বাজার সংলগ্ন রসুলপুর গ্রামে মেসার্স ফালগুনী বস্ত্রালয়ের মালিক আব্বাস আলী বাড়ির একটি আম থেকে বাড়ির নৈশপ্রহরী ও কেয়ারটেকার আব্দুর রাজ্জাকের মরদেহ ঝুলতে দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ রাজ্জাকের মরাদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় অধিবাসি রবিউল ইসলাম পরিবারের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, ভোররাতে আব্দুর রাজ্জাক পরিবারের সবার সাথে সেহেরীর খাবার খেয়েছেন। ভোররাতে বাড়ির একটি আম গাছে তার মরদেহ ঝুলতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) সুশান্ত ঘোষ জানান, মরদেহ দুটো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অধিকতর তদন্ত শেষে এই দু’জনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
