ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যে বিপর্যয়ের আশঙ্কা: কাতার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ইরানে চলমান বিক্ষোভকে ঘিরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে গোটা মধ্যপ্রাচ্য এবং আশপাশের অঞ্চল ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানী দোহায় এক বিবৃতিতে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে কোনো ধরনের উত্তেজনাবৃদ্ধি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতেও অস্থিতিশীলতা ও সংকট তৈরি করতে পারে। এ কারণে কাতার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
এর আগে গত বছর জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঘটনা ঘটে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করলে জবাবে ইরান কাতারের আল উদেইদে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। কাতারের ভূখণ্ডে এটি ছিল কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রথম সরাসরি হামলা। পরে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে মধ্যস্থতার ভূমিকা রাখে কাতার, যা এখনও বহাল রয়েছে।
এদিকে গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। দিন যত গড়াচ্ছে, বিক্ষোভ ততই তীব্র হচ্ছে। আন্দোলনের মূল কারণ অর্থনৈতিক সংকট। দীর্ঘদিন ধরে অবমূল্যায়নের কারণে ইরানি রিয়াল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ইরানি রিয়াল পাওয়া যাচ্ছে।
আরো পড়ুন : ইরানে বিক্ষোভে নিহত ১২ হাজার
জাতীয় মুদ্রার এই দুরবস্থার ফলে দেশটিতে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়।
কয়েক দিনের মধ্যেই এই আন্দোলন ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশ কার্যত অচল হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই ইরানের জনগণের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সর্বশেষ মঙ্গলবার তিনি বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শিগগিরই মার্কিন সহায়তা আসছে’।
অন্যদিকে ইরানের কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানবে ইরানি সেনাবাহিনী। ফলে পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
