দীপু হত্যা : লাশ পোড়ানোয় নেতৃত্ব দেওয়া যুবক গ্রেপ্তার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:০২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ময়মনসিংহের ভালুকায় পাইওনিয়ার নীটওয়্যার বিডি লিমিটেডের শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস (২৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মো. ইয়াছিন আরাফাত (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
দেশজুড়ে আলোচিত এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, বুধবার বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহযোগিতায় ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকা থেকে ইয়াছিন আরাফাতকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
আরো পড়ুন : এবার কোনো পাতানো নির্বাচন হবে না : সিইসি
গ্রেপ্তারকৃত ইয়াছিন আরাফাত ভালুকা থানার দক্ষিণ হবিরবাড়ি কড়ইতলা মোড় এলাকার বাসিন্দা এবং গাজী মিয়ার ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি টানা ১২ দিন দেশের বিভিন্ন মাদরাসায় আত্মগোপনে ছিলেন বলেও জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
পুলিশের তথ্যমতে, ঘটনার দিন পাইওনিয়ার নীটওয়্যার ফ্যাক্টরির গেটে স্লোগান দিয়ে লোক জড়ো করা এবং উত্তেজনা সৃষ্টির পেছনে ইয়াছিনের মুখ্য ভূমিকা ছিল। তিনি উত্তেজিত জনতাকে উসকানি দিয়ে দীপুকে নির্মমভাবে মারধর করেন। হত্যার পর দীপুর নিথর দেহ রশি দিয়ে টেনে-হিঁচড়ে স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সরাসরি নেতৃত্ব দেন ইয়াছিন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইয়াছিন আরাফাত ভালুকার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও গত প্রায় ১৮ মাস ধরে তিনি উপজেলার কাশর এলাকায় শেখবাড়ি মসজিদে ইমামতি এবং মদিনা তাহফিজুল কোরআন মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন। গত ১৮ ডিসেম্বর হত্যাকাণ্ড সংঘটনের পর তিনি কৌশলে আত্মগোপনে চলে যান। পলাতক অবস্থায় ঢাকার ডেমরার বিভিন্ন মাদরাসায় অবস্থান করেন এবং পরিচয় গোপন করে ‘সুফফা মাদরাসা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবেও যোগ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
