গৃহবধূর হাত-পায়ের রগ কাটলো স্বামী
পরিতোষ দাস, মদন, নেত্রকোণা
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
ছবি: নিজস্ব
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় মারুফা আক্তার (২৭) নামের এক নার্সের হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে মদন পৌরসদরের বাড়িভাদেরা রোডের একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, মারুফা আক্তার মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় তার স্বামী আরিফুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, আরিফুল ইসলামের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলায় এবং মারুফা আক্তারের বাড়ি নেত্রকোণা সদর উপজেলার মদনপুর এলাকায়। প্রায় ১০ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। তাদের ৭ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
প্রায় ৬ মাস আগে মারুফা আক্তার মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি পৌরসদরের বাড়িভাদেরা রোডের একটি ভাড়া বাসায় স্বামীর সঙ্গে বসবাস করছিলেন। পারিবারিক কলহের জেরে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র কলহের একপর্যায়ে আরিফুল ইসলাম তার স্ত্রী মারুফা আক্তারের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আটক আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, কলেজ জীবন থেকে শুরু করে স্ত্রীকে লেখাপড়ায় সহায়তা করেছেন তিনি। তবে স্ত্রীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানান।
মদন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূরুল হুদা খান জানান, আহত নার্স মারুফা আক্তারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার স্বামী আরিফুল ইসলামকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
মদন থানার ওসি হাসনাত জামান বলেন, "খবর পেয়ে আরিফুল ইসলামকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
