×

জাতীয়

শেষ বেলায় বিদেশিদের সঙ্গে বড় বড় চুক্তি, সরকারের তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম

শেষ বেলায় বিদেশিদের সঙ্গে বড় বড় চুক্তি, সরকারের তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য সম্প্রতি চুক্তি করেছে সরকার। ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকতেই বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে একাধিক বড় চুক্তি ও সমঝোতায় যাচ্ছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি, পাশাপাশি চীন ও জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার উদ্যোগ ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, এই মুহূর্তে একটি বিদায়ী সরকারের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা যুক্তিসংগত।

নির্বাচনের আগে এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত না নিয়ে নির্বাচিত সরকারের জন্য অপেক্ষা করা যেত কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে।

শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছে। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, ওই দিনই চুক্তি স্বাক্ষরের আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। এই ঘোষণায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের অনেকেই। তারা জানান, নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এ ধরনের চুক্তি স্বাক্ষরের বদলে নির্বাচিত সরকারের জন্য বিষয়টি ছেড়ে দেওয়া যেত।

সরকারের এই পদক্ষেপে রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষাসহ নীতিগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। রাজনৈতিক নেতাদের আশঙ্কা, দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে একতরফা কোনো চুক্তি মেনে নেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর এসব চুক্তি অনিশ্চয়তার মুখে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষ করে চুক্তিগুলোতে ‘নন-ডিসক্লোজার’ বা অপ্রকাশ্য শর্ত থাকা এবং অংশীজনদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা না হওয়ায় সন্দেহ আরো বেড়েছে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক অংশীজনদের অন্তত মূল বিষয়গুলো জানানো উচিত ছিল। ভবিষ্যতে তারাই এসব বাস্তবায়ন করবে।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে চীন ও জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ‘চলমান প্রক্রিয়ার অংশ’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান।

আরো পড়ুন : এনসিটি ইজারা: বন্দরে অচলাবস্থা, টানা কর্মবিরতিতে শ্রমিকরা

২০২৫ সালের এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একশটি দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। শুরুতে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হলেও পরে তা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র এই হার আরো কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করে। সাম্প্রতিক সময়ে এ হারে আরো ছাড় এবং খাতভিত্তিক সুবিধা পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী।

এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এলএনজি, কৃষিপণ্য আমদানি এবং উড়োজাহাজ ও যন্ত্রাংশ কেনার সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার। তবে শুল্ক চুক্তির আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) নিয়েই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে। গত বছরের ১৩ জুন স্বাক্ষরিত এই এনডিএ অনুযায়ী আলোচনার বিষয়বস্তু গোপন রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এতে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের অসন্তোষ আরো বেড়েছে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, শুল্ক আলোচনায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল দুইবার যুক্তরাষ্ট্রে গেলেও ব্যবসায়ী মহলের অংশগ্রহণ ছিল না। এই চুক্তিতে কী আছে সেটাই আমরা জানি না বলে জানান তিনি।

অর্থনীতিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শুল্কের হার কমিয়ে আনতে পারায় সরকার হয়তো চুক্তিটি শেষ করে যেতে চাইছে। তবে ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকারের জন্য এতে পরিবর্তন আনা কঠিন হতে পারে। যদিও টিকফা প্ল্যাটফর্মে ভবিষ্যতে আলোচনার সুযোগ রাখার কথা বলেন তিনি।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হয়েও সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা প্রশ্নবিদ্ধ। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী চুক্তিকে ‘রুটিন ওয়ার্ক’ হিসেবে দেখলেও প্রতিরক্ষা চুক্তিতে কোনো একতরফা বা ভারসাম্যহীন শর্ত থাকলে আপত্তির কথা জানিয়েছে।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামো খাতে বেশ কয়েকটি বড় উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দেশ থেকে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও সাবমেরিন কেনা, যুদ্ধজাহাজের সক্ষমতা বাড়ানো, এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বন্দর ও টার্মিনাল পরিচালনার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি।

এসব চুক্তি নিয়ে সরকারের ব্যাখ্যা হলো—এগুলো সবই চলমান প্রক্রিয়ার অংশ। তবে নির্বাচনের একেবারে প্রাক্কালে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া নিয়ে বিতর্ক ও প্রশ্ন আপাতত থামছে না।


টাইমলাইন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

জাতীয় নির্বাচনের আগমুহূর্তে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা আতঙ্কে

ওয়াশিংটন পোস্ট জাতীয় নির্বাচনের আগমুহূর্তে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা আতঙ্কে

মধ্যরাতে থানায় ককটেল নিক্ষেপ

মধ্যরাতে থানায় ককটেল নিক্ষেপ

ইসলামী আন্দোলনের ৩০ দফা ইশতেহার ঘোষণা

শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার ইসলামী আন্দোলনের ৩০ দফা ইশতেহার ঘোষণা

দুর্নীতিবাজদের লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন : লালমনিরহাটে শফিকুর রহমান

দুর্নীতিবাজদের লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন : লালমনিরহাটে শফিকুর রহমান

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App