সরকার বদলের পরই পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের দাবি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২১ এএম
ফাইল ছবি
নতুন সরকার কয়েকদিন হলো দায়িত্ব নিয়েছে। সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই নতুন পোশাক নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তা বদলের দাবি জানিয়েছে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুলিশের যে নতুন পোশাক চালুর সিদ্ধান্ত নেয় বাহিনীটির বেশির ভাগ সদস্য সেটির পক্ষে নয় বলে দাবি করেছে পুলিশের ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠনটি।
সংগঠনটি বলছে, বিপুল অর্থ ব্যয়ে পোশাক পরিবর্তন না করে বাহিনীর আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ে যানবাহন সরবরাহ ও লজিস্টিকস সাপোর্ট বৃদ্ধি করাই অধিক যুক্তিযুক্ত।
সোমবার বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশ পুলিশের জন্য যে নতুন পোশাক নির্বাচন করেছে, সেখানে পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং, আবহাওয়া এবং সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। কোনো প্রকার জনমত যাচাই ছাড়াই নির্বাচিত এই পোশাকের সঙ্গে ইউনিফর্মধারী অন্যান্য সংস্থার পোশাকের হুবহু সাদৃশ্য রয়েছে। এর ফলে মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মতামত উঠে এসেছে। বিষয়টি অ্যাসোসিয়েশনের নজরে এসেছে এবং বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই পরিবর্তনের পক্ষে নন।
পুলিশের পোশাকের ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন এবং ১০ ফেব্রুয়ারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তৎকালীন সরকার একটি কমিটির দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশের আগের পোশাকটি নির্ধারণ করেছিল। সে সময় আবহাওয়া, দিনে ও রাতে দায়িত্বপালনের সুবিধার্থে দৃশ্যমানতা, পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং এবং অন্য বাহিনীর সঙ্গে যেন সাদৃশ্য না থাকে—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছিল।
১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী বিএনপি ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের অবসান ঘটে।
নতুন পোশাক নিয়ে সদস্যদের মধ্যে এতদিন আপত্তি থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাহিনীর তরফে কোনো বিরোধিতা আসেনি।
পুলিশের নতুন পোশাক চালু হয়েছে ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে। প্রথম পর্যায়ে সীমিত পরিসরে সদস্যদের কাছে এ পোশাক সরবরাহ করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে দমন-পীড়নের অভিযোগ ওঠার পর থেকে সমালোচনার মুখে থাকা পুলিশ বাহিনীর সংস্কার ও পোশাক পরিবর্তনের দাবি উঠলে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পোশাক অনুমোদন করে।
নীল ও সবুজ রঙের আগের পোশাকের পরিবর্তে নতুন ‘আয়রন গ্রে’ রঙের পোশাক পরছেন রেঞ্জ ও মহানগর পুলিশ সদস্যরা।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে জানায়, বাহিনীর বেশির ভাগ সদস্যই তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই পরিবর্তনের পক্ষে নন। বরং তাঁরা আগের পরিহিত পোশাকটিকে বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্বের প্রতীক হিসেবে মনে করেন।
সাম্প্রতিক নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর প্রায় সব সদস্য এই পোশাক পরিহিত অবস্থায় অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের এই ভূমিকা দেশ ও বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পোশাক পরিবর্তন একটি বিশাল ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া, যা বর্তমান অর্থনৈতিক পটভূমিতে দেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নতুন পোশাক তৈরির পরিবর্তে বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যয় করা অধিক জরুরি। পোশাকের রং বা নকশা নয়, বরং পুলিশ সদস্যদের মানসিকতার পরিবর্তন, মনোবল এবং পেশাদারত্বের উন্নয়নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিবৃতিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি যেন পুনর্বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্যের আবেগ ও বাস্তবসম্মত দিকগুলো গুরুত্ব দিয়ে আরও অধিক গবেষণা ও জনমত যাচাইপূর্বক এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
