হাদি হত্যা মামলা: দিল্লিতে ফয়সাল-আলমগীর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি। ছবি : সংগৃহীত
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগীর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নয়াদিল্লিতে নিয়ে গেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। গত সোমবার রাতে কলকাতা থেকে দিল্লিতে নেওয়া হয় ভারতে গ্রেপ্তার এই দুজনকে। তাদের ভারতে অনুপ্রবেশ ও অবস্থানের পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
ফয়সাল ও আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) পর্যন্ত ভারতের কাছ থেকে কনস্যুলার সুবিধা পায়নি বাংলাদেশ। তবে দ্রুত এই সুবিধা পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সরকার। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংয়ে জানান, অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা সরকারের অগ্রাধিকার।
সূত্র জানায়, গত রোববার পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগর মহকুমা আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের ১২ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে তদন্তের স্বার্থে নতুন করে আবেদন জানিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা তাঁদের নিজেদের হেফাজতে নেয়।
প্রাথমিকভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা করা হলেও তদন্তে নতুন তথ্য আসায় বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের ১৬ ও ১৮ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, তাদের ভারতে প্রবেশ ও অবস্থানের সঙ্গে একটি বড় চক্র জড়িত থাকতে পারে। এই চক্র, যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে তাঁদের দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আরো পড়ুন : ‘হাদি হত্যার আসামিদের দেশে ফেরাতে যোগাযোগ চলছে’
গত ৮ মার্চ রাতে সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকা থেকে ফয়সাল ও আলমগীরকে আটক করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর তাঁদের ১৪ দিনের হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে উত্তর ২৪ পরগনার বিধাননগর মহকুমা আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের ১২ দিনের কারা হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আগামী ২ এপ্রিল তাঁদের আবার আদালতে হাজির করা হবে।
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল দাবি করেন, তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। তবে, তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে কি না, এ প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান। এসটিএফ সূত্র জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সাল ও আলমগীর ঢাকায় হাদিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
এই মামলায় তাঁদের ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগে আরো একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে শরিফ ওসমান হাদিকে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এই ঘটনায় পল্টন থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ ফয়সাল ও আলমগীরসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। এর মধ্যে ১১ জন ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। পরে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেয়। সিআইডি তদন্ত শুরু করার পর আরো একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। ভারতে আটক ফয়সাল ও আলমগীর ছাড়াও তাঁদের পালাতে সহায়তাকারী আরেকজনকেও সেখানে আটক করা হয়েছে।
