×

জাতীয়

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা নিয়ে সংসদে দীর্ঘ আলোচনা

Icon

ফেরদৌস আরেফীন

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা নিয়ে সংসদে দীর্ঘ আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা ডাকার বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের তোলা মুলতবি প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে জাতীয় সংসদে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যার পর কার্যপ্রণালী বিধির ৬২ বিধিতে এই আলোচনা শুরু হয়।

এর আগে ২৯ মার্চ সংসদের বৈঠকে ঠিক হয়েছিল, ৩১ মার্চ বিষয়টি নিয়ে দুই ঘণ্টা আলোচনা হবে।

মূলতবি প্রস্তাবের আলোচ্য বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ (আদেশ নং-০১, ২০২৫) এর অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহবান প্রসঙ্গে।’

প্রস্তাবটি উত্থাপন করে শফিকুর রহমান বলেন, ১৫ মার্চ পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি তোলার পর স্পিকারের পরামর্শে তিনি যথাযথ নোটিস দেন, পরে তা আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশের মানুষের পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হয়নি; অতীতে ভোটে নির্বাচিত সরকার এলেও ভোটাধিকার বারবার খর্ব করা হয়েছে।’

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটি শুধু তরুণদের আন্দোলন ছিল না; কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ, ছাত্রজনতা, এমনকি শিশু সন্তানকে নিয়েও মায়েরা রাস্তায় নেমেছিলেন। জুলাইতে আন্দোলন হয়েছিল যে ন্যায্যতার ভিত্তিতে, ন্যায়বিচারের উপরে একটা দেশ কায়েম হবে যেখানে সবাই সমান অধিকার পাবে নাগরিক হিসেবে।’

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, দীর্ঘ আলোচনা শেষে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে সংস্কারের প্রস্তাব চূড়ান্ত হয় এবং সেই আলোকে রাষ্ট্রপতি একটি আদেশ জারি করেন।

বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাঁড়িয়ে শুরুতেই ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ বিষয়টির ঘোর বিরোধীতা করে বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সংবিধানের বাইরে গিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম বিতরণ করে শপথ ভঙ্গ এবং সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।

তিনি এই পুরো প্রক্রিয়াকে অবৈধ এবং বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি ‘প্রতারণার দলিল’ হিসেবে অভিহিত করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংবিধান সংরক্ষণের জন্য ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন। কিন্তু তিনি কোন আইন বলে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে পাঠালেন? এই ফরম দাখিল করার কোনো এখতিয়ার তার নেই। তিনি এটি করে শপথ ভঙ্গ ও সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের নির্বাচনের জন্য একটি ব্যালট দিয়েছিল। সেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য কোনো আলাদা ব্যালট ছিল না। জনগণ সংসদ সদস্য হিসেবে আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে, অস্তিত্বহীন কোনো পরিষদের সদস্য হিসেবে নয়।

বিগত সরকারের জারি করা আদেশটিকে ‘ভয়েড অ্যাব ইনিশিও’ (শুরু থেকেই বাতিল) আখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিলের পর থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির কোনো ক্ষমতা নেই। সংবিধানের চতুর্থ তফশিলের ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সেই ক্ষমতা রহিত করা হয়েছে। সুতরাং যে আদেশের জন্মই অবৈধ, তার ভিত্তিতে কোনো অধিবেশন আহ্বান করা যায় না। এই আদেশটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি প্রতারণার দলিল। এটি না অধ্যাদেশ, না আইন। এটি সার্বভৌম পার্লামেন্টের অধিকার ক্ষুণ্ন করার একটি ব্যর্থ চেষ্টা বলে জানান তিনি।

এ পর্যায়ে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার)’ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের সমন্বয়ে একটি ‘সংবিধান সংশোধন বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ কমিটির মাধ্যমে আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে জনপ্রত্যাশিত সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন ও পাসের আহ্বান জানান তিনি।

গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে তিনি বলেন, সারা জাতির মধ্যে একটি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে যে, বিএনপি সংস্কার চায় না বা বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদ মানে না। আমরা জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে ছিলাম এবং আছি। এই সনদের প্রতিটি অক্ষর, শব্দ ও বাক্য আমরা ধারণ করি। কিন্তু যে আদেশটি (সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ) নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে, সেটি আমরা মানছি না, কারণ এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

গণভোটের ব্যালট নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোটের ব্যালটে চারটি প্রশ্ন দেওয়া হয়েছিল এবং জনগণকে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। এই চারটির মধ্যে তিনটি প্রশ্নের সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের মিল আছে, কিন্তু একটির সঙ্গে নেই। আপনি জাতিকে এভাবে জোর করে কোনো আইন গেলাতে পারেন না।

রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ঐতিহাসিক অঙ্গীকার প্রতিপালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সরকারি দল, বিরোধী দল সবাইকে নিয়ে মহান জাতীয় সংসদে সমঝোতার ভিত্তিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংবিধানের গণতান্ত্রিক সংশোধনী আনতে চাই। তাই আমি সংসদ নেতার (প্রধানমন্ত্রী) পক্ষে প্রস্তাব রাখছি– সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের সমন্বয়ে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হোক। ওই কমিটিতে সবার আলোচনার ভিত্তিতে একটি সংবিধান সংশোধনী বিল এই মহান সংসদে উত্থাপন ও গ্রহণ করা হোক।

এরপর পুনরায় বিরোধী দলীয় নেতা সংসদে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কমিটি তৈরির প্রস্তাব সমর্থন করে, সেই কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দলের সমান সংখ্যাক সদস্য রাখার প্রস্তাব দেন।

সবশেষে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান দাঁড়িয়ে স্পিকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ একটি অদ্ভুত বিষয়ে এসে দাঁড়িয়েছে, তাই কমিটি করা ছাড়া এর সমাধান সম্ভব নয়।’

বিরোধী দলীয় নেতার প্রস্তাবিত সমান সংখ্যাক সদস্য নিয়ে কমিটি করার বিরোধীতা করে আইনমন্ত্রী বলেন, এক তৃতীয়াংশ সদস্য নিয়ে বিরোধীদলের সমান সংখ্যাক সদস্য কমিটিতে চাওয়া হাস্যকর।

আর বাহাত্তরের সংবিধান প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, যতোই ভুল থাকুক আর যতোই বিরোধীতা করা হোক না কেন- লক্ষ শহীদের রক্তে ভেজা আর অগণিত মা-বোনের সম্মানের বিনিময়ে পাওয়া এই সংবিধানকে অস্বীকার করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

কৃষি ব্যাংক ম্যানেজারের সচেতনতায় বানচাল

জাল দলিল দিয়ে ব্যাংক লোনের ফন্দি কৃষি ব্যাংক ম্যানেজারের সচেতনতায় বানচাল

মোবাইল কোর্টে টিমের ওপর ড্রেজার ব্যবসায়ীদের হামলা!

মোবাইল কোর্টে টিমের ওপর ড্রেজার ব্যবসায়ীদের হামলা!

সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ

তনু হত্যা মামলা সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ

‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ যেন ঢাকার ‘ক্যাসিনো সিটি’

‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ যেন ঢাকার ‘ক্যাসিনো সিটি’ পরিচালনায় সম্রাটের ক্যাসিনো পার্টনার কাশেম

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App