ঘোষণা ছাড়াই বাস ভাড়া বৃদ্ধি, ভোগান্তিতে নগরজীবন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই বাস ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব গণপরিবহন খাতে পড়তে শুরু করলেও সরকারিভাবে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়নি। এর সুযোগে অনেক রুটে চালক ও হেলপাররা ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে যাত্রীরা অভিযোগ করছেন। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নিয়মিত যাত্রী ও নিম্ন আয়ের মানুষরা।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, স্বল্প দূরত্বে আগের চেয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। কিছু ব্যস্ত বা দূরপাল্লার রুটে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবাদ করলে অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের সঙ্গে চালক ও হেলপারদের তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে, এমনকি কোথাও কোথাও যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
যাত্রাবাড়ী থেকে শাহবাগ রুটে চলাচলকারী এক যাত্রী জানান, আগে ২০ টাকা ভাড়া দিলেও এখন ২৫ টাকা দিতে হচ্ছে। একইভাবে সায়েদাবাদ থেকে ফার্মগেট রুটে ২৫ টাকার জায়গায় ৩০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, কোনো ধরনের সরকারি নির্দেশনা ছাড়াই ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে, যা তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান, পল্টন ও শাহবাগসহ বিভিন্ন এলাকার যাত্রীরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের মতে, প্রতিদিনের যাতায়াত ব্যয় বেড়ে গেছে, কিন্তু আয় বাড়েনি। আন্তজেলা বাসেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা-মৌলভীবাজার রুটে আগে যেখানে ভাড়া ছিল ৫৭০ টাকা, এখন তা বেড়ে ৬২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। পরিবহন মালিকদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং যন্ত্রাংশের দাম বাড়ায় পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাদের মতে, ২০২২ সালে নির্ধারিত ভাড়া বর্তমান বাস্তবতায় আর কার্যকর নয়। তখন দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ছিল ২.২০ টাকা এবং মহানগরে ২.৫০ টাকা। এরপর আর কোনো সমন্বয় হয়নি।
অন্যদিকে যাত্রী অধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই পরিবহন সংশ্লিষ্ট কিছু পক্ষ নিজেরাই ভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারা মনে করেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বচ্ছ ও যৌক্তিক প্রক্রিয়ায় ভাড়া নির্ধারণ করা উচিত।
শুধু বাস নয়, লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং রাইড শেয়ারিং সেবাতেও ভাড়া বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে পিক আওয়ারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ বেশি।
সায়েদাবাদ এলাকায় কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। সাজ্জাদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জানান, এসএসসি পরীক্ষার জন্য তিনি ছেলেকে যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুলে নিয়ে আসেন। আগে শনিরআখড়া থেকে ১০ টাকা ভাড়া নিলেও এখন ১৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কন্টাকটারের বাগবিতণ্ডাও হয়েছে।
দূরপাল্লার বাসেও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নুর নবী মোস্তফা নামে এক যাত্রী জানান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও সিলেটগামী বাসে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।
এক পরিবহন চালক বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সব ধরনের পরিবহনের ভাড়া বাড়বে। তেল সংগ্রহে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হওয়ায় সময়সূচি ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তবে জানা গেছে, রাজধানীর অনেক বাস সিএনজিচালিত হলেও তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে। সাধারণ যাত্রীদের পক্ষে কোন যানবাহন সিএনজি আর কোনটি ডিজেলচালিত তা বোঝা কঠিন হওয়ায় তারা সহজেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর প্রভাব সরাসরি পরিবহন খাতে পড়ছে।
সকালের দিক থেকেই ঢাকার বিভিন্ন রুটে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার ঘটনা দেখা গেছে। কোথাও কোথাও এ নিয়ে যাত্রী ও পরিবহন কর্মীদের মধ্যে বিরোধও তৈরি হয়েছে। যাত্রীরা বলছেন, কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই এভাবে ভাড়া বাড়ানো অযৌক্তিক এবং দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর গণপরিবহন খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ভাড়া নির্ধারণে অনিশ্চয়তা এবং মাঠপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের অভাবে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন। যাত্রীদের দাবি, দ্রুত যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হোক।
