যুক্তরাজ্যে ‘নিশ্চিত ভিসা’ ও ‘চাকরির’ প্রতারণা, ব্রিটিশ হাইকমিশনের সতর্কতা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে ভিসা ও চাকরির নামে প্রতারণা বাড়ছে—এ বিষয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে ঢাকায় অবস্থিত ব্রিটিশ হাইকমিশন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।
বার্তায় বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার ভিসা নিয়ে ভুয়া প্রতিশ্রুতি ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে সবসময় সরকারি ওয়েবসাইট (www.gov.uk) থেকে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সন্দেহজনক কোনো লেনদেন বা প্রতারণার শিকার হলে পরিচয় গোপন রেখে [email protected] ঠিকানায় অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে।
এর আগে গত বছরের শেষ দিকে ব্রিটিশ হাইকমিশন জানিয়েছিল, ভিসা জালিয়াতি বা অবৈধ উপায়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১০ বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। জাল নথি প্রতিরোধে এটি তাদের কঠোর অবস্থানের অংশ।
এছাড়া গত ৮ এপ্রিল কানাডা, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ ১৩টি পশ্চিমা দেশ যৌথভাবে একটি বিবৃতি দেয়, যেখানে ভিসা প্রতারণা ও নথিপত্র যাচাইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এটি বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা যুক্তরাজ্যে চাকরি ও ‘নিশ্চিত ভিসা’র প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে। কিছু ক্ষেত্রে মানবপাচারকারী চক্র উন্নত দেশে পাঠানোর কথা বলে তরুণদের নেপালে নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করছে। আবার গন্তব্যে পৌঁছানোর পর টাকা দেওয়ার শর্ত দেখিয়ে প্রলুব্ধ করা হয়। বিদেশে ভালো চাকরির আশ্বাস দিয়ে অনেককে সাইবার প্রতারণা চক্রে যুক্ত করে নির্যাতনের শিকার করা হচ্ছে। ইউরোপে নেওয়ার কথা বলে লিবিয়ায় আটকে নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে।
এ কারণে বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে তা গোপন না রেখে পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
