যশোরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী
একটি পক্ষ একাত্তরের মতো বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘যারা দেশ স্বাধীনের সময়, দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানুষকে বিভ্রান্তির চেষ্টা করেছিল, যারা ’৮৬ সালে বিভ্রান্তি করেছিল, যারা ’৭১ সালে বিভ্রান্তি তৈরি করেছিল, যারা ২০০৯ সালে বিভ্রান্তি করেছিল, ঠিক এই সকল ব্যক্তি আজ আবার এসে ২০২৬ সালে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে ।’
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে যশোরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।
জনগণের শান্তি নষ্ট করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন আমরা নিজেদেরকে সতর্ক রাখব, যাতে আর কেউ দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে। যাতে করে আর আমরা কাউকে সুযোগ দেব না- জনগনের শান্তি নষ্ট করে ১৭৩ দিন হরতাল পালন করবে, সেই সুযোগ আমরা কাউকে দেব না।’
তিনি বলেন, ‘এবং বিভিন্ন রকম জুজু-বুড়ির ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে পিছিয়ে রাখা যাবে না, বাংলাদেশের মানুষকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। আজকে এই জনসভার যে প্রতিশ্রুতি, যেই প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাঁচ তারিখের পরে বিএনপি পরিষ্কার বলেছে, জুলাই-অগাস্ট মাসে যারা মানুষ হত্যা করেছে, তাদের বিচার হতে হবে। কিন্তু আমরা দেখেছি পাঁচ তারিখের পরে কেউ কেউ বলেছিল- আমরা সবাইকে মাফ করে দিলাম। বলেছিল না? বলেছিল। কিন্তু আমরা কয়েকদিন আগে দেখেছি, যারা বক্তৃতায় জোরে জোরে কথা বলে; তাদেরকেই গিয়ে দেখেছি ফ্যাসিবাদের দোসরদের সাথে ঢাকা থেকে অনেক দূরে গিয়ে মিটিং করতে। জনগণ যখন সেটা ঘিরে ফেলেছে- জায়গা, তখন আর তারা কোনো জবাব দিতে পারে না কেন- ফ্যাসিবাদের সাথে গিয়ে মিটিং করেছে?’
জুলাই সনদ সংসদে পাস করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির কাছে কী কী অগ্রাধিকার আপনাদের সাথে পরিষ্কারভাবে তুলে দিতে চাই। বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দল মিলে আমরা সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ সই করেছি। বাংলাদেশের মানুষ ভোটের মাধ্যমে রায় দিয়েছে যে, যেই জুলাই সনদ দক্ষিণ পাজায় সই করা হয়েছে, সেই জুলাই সনদ পাস করতে হবে। সেজন্যই আমরা বলেছি যে, এই জুলাই সনদ আমরা দক্ষিণ প্লাজায় সই করেছি, সেই জুলাই সনদের প্রত্যেকটি শর্ত প্রত্যেকটি লাইন ইনশাল্লাহ বিএনপি সংসদে পাস করবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে, বিএনপির কাছে এখন অগ্রাধিকার হচ্ছে, যে সরকারকে বাংলাদেশের জনগণ ১২ তারিখে নির্বাচনে নির্বাচিত করে, সেই বিএনপি সরকারের কাছে অগ্রাধিকার হচ্ছে মা-বোনদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা; সেই বিএনপির কাছে অগ্রাধিকার হচ্ছে হামের টিকার অভাবে যে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে, তাদের টিকার ব্যবস্থা করা…এর বাইরেও বাংলাদেশের মানুষ, গ্রামের মানুষ, শহরের মানুষ, উপজেলার মানুষ, জেলার মানুষ যে স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে না, তাদের স্বাস্থ্যের সেবা নিশ্চিত করা।’
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
এর আগে শার্শায় উলশী খাল পুনঃখনন, হরিনারবিলে পাঁচশ শয্যার যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন এবং দড়াটানায় যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সার্কিট হাউজে মধ্যাহ্ন ভোজ শেষে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠের জনসভায় আসেন সরকারপ্রধান।
