ডিএমপির আলোচিত ডিসি মাসুদ আলমকে চট্টগ্রামে বদলি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
ছবি: ফাইল ফটো
মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে কৌশলী ভূমিকা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে সক্রিয় উপস্থিতি ইত্যাদি মিলিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম আলোচিত একটি নাম।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৮টি বিভাগে ৮ জন ডিসি (উপপুলিশ কমিশনার) থাকলেও, বাকি ৭ জনের তুলনায় ‘রমনার ডিসি মাসুদ’ নামে ও চেহারায় নগরবাসীর কাছে অনেক বেশি পরিচিত- তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
মঙ্গলবার (৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ৩৯ কর্মকর্তার সঙ্গে মাসুদ আলমকেও বদলি করা হয় চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) পদে।
তার এই বদলির খবর গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে ঢাকাবাসীর মুখে মুখে ‘রমনার ডিসি মাসুদ’-এর বদলি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনার ঝড় বইছে।
বিসিএস ২৮তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা কর্মদক্ষতা এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষমতার জন্য পুলিশ বাহিনীতে বিশেষভাবে পরিচিত।
তবে দেশবাসীর কাছে বিভিন্ন কারণেই আলোচিত ডিসি মাসুদ আলম। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাজধানীর সচিবালয়, হাইকোর্ট, টিএসসি এবং প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ এলাকায় শতাধিক আন্দোলন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সামলানোর জন্য ব্যপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি।
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকাসহ রমনা বিভাগের বিভিন্ন সংঘর্ষ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তার নেওয়া তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম গণমাধ্যমে বারবার আলোচিত হয়েছে।
২০২৫ সালের আগস্টে আন্দোলনকারীদের ‘যমুনা’ অভিমুখে যেতে বাধা দেওয়ার সময় তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, পরিস্থিতি নাকি এমন হয়েছিল যেখানে তার পদত্যাগের দাবি উঠেছিল। তিনি আরও বলেছিলেন, আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করলে হয়তো তাকে দেশেই থাকা সম্ভব হতো না। তার এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরালও হয়েছিলো তখন।
২০২৫ সালের আগস্টে সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় মাসুদ আলম এক আন্দোলনকারীর মুখ চেপে ধরেছেন। ডিএমপি দাবি করেছিল ছবিটি এআই-জেনারেটেড, তবে সংবাদমাধ্যম ‘দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’ ছবিটি তাদের আলোকচিত্রীর তোলা এবং সত্য বলে দাবি করে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
২০২৫ সালের নভেম্বরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় উত্তেজনা চলাকালে কোনো এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে তার ফোনালাপের ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এরা তো শিবির স্যার, আমাদের এখানে নতুন কিছু ফোর্স লাগবে।’ আন্দোলন দমনে ‘শিবির ট্যাগ’ ব্যবহারের ওই ঘটনায় তিনি তখন কিছুটা সমালোচনার মুখেও পড়েছিলেন।
তবে ঢাকাবাসী তাকে সবচেয়ে বেশি দেখেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাদকবিরোধী অভিযানে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে সপ্তাহে তিন থেকে চারদিন তার নেতৃত্বে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
