রবীন্দ্রনাথের নারী চরিত্র ও ঠাকুরবাড়ির নারীদের জীবন্ত রূপায়ণ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
গীতি, নৃত্য এবং ফ্যাশন শো-এর এক মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনার মাধ্যমে ঠাকুরবাড়ি ও রবীন্দ্রসাহিত্যের নারী চরিত্রগুলোকে নতুনভাবে তুলে ধরা হলো রাজধানী ঢাকায়।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় গুলশানের একটি হোটেলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠান। “নব আনন্দে জাগো” শিরোনামের এ আয়োজনটি যৌথভাবে করে ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব বাংলাদেশ, ভারতীয় হাইকমিশন ও ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার।

অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসাহিত্যের লাবণ্য, সুচরিতা, চারুলতা, বিমলা, চিত্রাঙ্গদা, চণ্ডালিকা ও শ্যামাসহ নানা চরিত্রকে গীতি ও নৃত্যনাট্যের মাধ্যমে জীবন্ত করে তোলা হয়। একই সঙ্গে ঠাকুরবাড়ির নারীদের মধ্যে কাদম্বরী দেবী, জ্ঞানদানন্দিনী, স্বর্ণকুমারী, সরলা, ইন্দিরা দেবী, মৃণালিনী দেবী, মাধুরীলতা, রেণুকা ও মীরাদেবীর জীবনচিত্রও উপস্থাপন করা হয়।


শিল্পীদের মধ্যে লাবণ্য চরিত্রে রিপা, বিমলা চরিত্রে ইলা, চারুলতা চরিত্রে সানজিদা, সুচরিতা চরিত্রে রিফাত, মৃণালিনী চরিত্রে সাদিয়া, গিরিবালা চরিত্রে রুনি এবং নন্দিনী চরিত্রে বাবলি অভিনয় করেন। শ্যামা চরিত্রে সাবা, চিত্রাঙ্গদা চরিত্রে অন্তরা এবং চণ্ডালিকা চরিত্রে সুস্মিতা নৃত্য পরিবেশন করেন। এছাড়া ভানু সিংহের পদাবলিতে নৃত্য পরিবেশন করেন সামিনা হুসেন প্রেমা।


রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন স্বপ্নিল সজীব, ফারহিন খান জয়ীতা, মহুয়া মঞ্জুরী ও সেমন্তী মঞ্জুরীসহ অনেকে। কাব্যপাঠ ও ধারাবিবরণীতে ছিলেন ত্রপা মজুমদার ও আশিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানটি ফ্যাশন শোয়ের এক নতুন সংযোজন হিসেবে প্রশংসিত হয়, যেখানে রবীন্দ্রসাহিত্যের নারী চরিত্রগুলোর পোশাক, সাজসজ্জা ও ব্যক্তিত্বকে শিল্পসম্মতভাবে তুলে ধরা হয়। পুরো আয়োজন জুড়েই ছিল বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গভীর ছাপ।


সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলা এই অনুষ্ঠানে সংগীত, আবৃত্তি, নৃত্যনাট্য ও ফ্যাশন শোয়ের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও দর্শনকে এক মঞ্চে উপস্থাপন করা হয়।


অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য, সংগীত ও মানবতাবাদী দর্শনের অবদান তুলে ধরেন। ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব বাংলাদেশের সভাপতি মাহীন খান আয়োজনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন এবং সাধারণ সম্পাদক শৈবাল সাহা স্বাগত বক্তব্য দেন।
