×

এনসিপি

‘১০ কোটি টাকা’ বিতর্কে মুখ খুললেন হাসনাত, দিলেন হিসাব

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম

‘১০ কোটি টাকা’ বিতর্কে মুখ খুললেন হাসনাত, দিলেন হিসাব

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়ার তোলা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। নিজের উপজেলার জন্য বরাদ্দ হওয়া অর্থ ব্যয়ের খাতভিত্তিক হিসাব তুলে ধরে জেলা পরিষদের প্রশাসকের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।

রোববার (৩১ মে) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে আসেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। প্রায় ৪৫ মিনিটের ওই লাইভে দেবীদ্বার উপজেলার উন্নয়ন কাজে ব্যবহৃত অর্থের বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরেন তিনি।

‘মিডিয়া মাফিয়ার আয়নাবাজি’ শিরোনামের ওই লাইভের শুরুতেই হাসনাত গণমাধ্যমের সমালোচনা করে বলেন, “বাংলাদেশের মিডিয়া মাফিয়া কীভাবে কাজ করে, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে লাইভে এসেছি। বাংলাদেশের মিডিয়া কীভাবে আপনার কনসার্নকে ম্যানুফ্যাকচার করে, আপনার মতামতকে প্রভাবিত করে এবং আপনার অবচেতন মনে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা বিশেষ আদর্শ সম্পর্কে এক ধরনের ধারণা তৈরি করে।”

হাসনাত বলেন, রাজস্ব বরাদ্দ ও এডিপি বরাদ্দের পার্থক্য না বুঝেই একজন রাজনৈতিক নেতা বক্তব্য দিয়েছেন। একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন মন্তব্য করেছেন। এসব অর্থ বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে, ব্যক্তি হিসেবে কারও সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

মাঝরাতের ওই ফেসবুক লাইভে ১৪৮টি প্রকল্পের বিপরীতে ৮ কোটি ৪২ লাখ টাকার হিসাব তুলে ধরেন হাসনাত। তিনি বলেন, এটি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ, যা জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রশাসক রাজস্ব খাত ও বিশেষ বরাদ্দ সম্পর্কে ধারণা রাখলে এমন মন্তব্য করতেন না। তার বক্তব্যে মনে হয়েছে, যেন অর্থ ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে। অথচ দেবীদ্বারের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে এসব বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এনসিপির এ নেতা বলেন, “এখানে তো লুকানোর কিছু নেই, সব কিছু ওয়েবসাইটে আছে। এটি চাইলে যে কেউ দেখতে পারে। আমি আগেও যেসব বাজেট এসেছে, সব হিসাব লাইভে এসে দিয়েছি।”

হাসনাত আরও বলেন, “১০ কোটি টাকার কথা বলা হচ্ছে। আমি যখন নির্বাচিত হইনি, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিপি সাধারণ, এডিপি বিশেষ এবং নিজস্ব রাজস্ব খাত মিলিয়ে মোট ৮ কোটি ৪২ লাখ টাকার প্রকল্প দেবীদ্বারে দেওয়া হয়েছে। এক টাকা কম না, এক টাকা বেশি না। ১৪৮টি খাতে এসব প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। একটি প্রকল্পও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। অনলাইনে গেলেই এগুলো দেখতে পাবেন।”

তিনি বলেন, “অথচ জেলা পরিষদের প্রশাসক বললেন আমি ১০ কোটি টাকা নিয়ে গেছি। গত দুই দিন মিডিয়া ট্রায়াল চালানো হলো যে আমরা টাকা নিয়ে গেছি, টাকার কথা মানুষের কাছে লুকিয়েছি। অথচ সব কিছু ওয়েবসাইটে উন্মুক্তভাবে রয়েছে।”

সংসদ সদস্য হাসনাত বলেন, “যারা প্রপাগান্ডা করেছেন, আপনাদের যদি চর্মচক্ষু থাকে এবং একটু জ্ঞানবুদ্ধি থাকে, শুধু ইন্টারনেটে সার্চ করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে। কোন খাতে কত টাকা এবং কোন প্রক্রিয়ায় ব্যয় হয়েছে, চাইলে সব কিছু বের করা সম্ভব।”

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমার এলাকার যতগুলো বরাদ্দ ও বাজেট এসেছে, সম্প্রতি লাইভে সেগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেছি। আমার পেজ ‘জবাবদিহিতা’য়ও নিয়মিত আপডেট দেওয়া হয়। সবার বাসায় মোবাইল, ইন্টারনেট ও ফেসবুক আছে। সার্চ করলেই যে কেউ বিস্তারিত দেখতে পারবেন। এখন এটাকে যেভাবে ফ্রেমিং করা হলো, তা খুবই দুঃখজনক।”

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (৩০ মে) কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে এক অনুষ্ঠানে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করেন, সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কুমিল্লা জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ২৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। তার এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে এ বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ফোনে জানতে চাইলে মোস্তাক মিয়া বলেন, উন্নয়ন কাজের জন্য অর্থ নেওয়া হয়েছে। কেউ ব্যক্তিগতভাবে ওই অর্থ নিয়েছেন এমন কথা তিনি বলেননি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘১০ কোটি টাকা’ বিতর্কে মুখ খুললেন হাসনাত, দিলেন হিসাব

‘১০ কোটি টাকা’ বিতর্কে মুখ খুললেন হাসনাত, দিলেন হিসাব

বিএনপির সঙ্গে নেগোসিয়েশনের অভিযোগ, যা বললেন তাসনিম জারা

বিএনপির সঙ্গে নেগোসিয়েশনের অভিযোগ, যা বললেন তাসনিম জারা

শ্রীলঙ্কার লিগের ড্রাফটে ৩২ বাংলাদেশি

শ্রীলঙ্কার লিগের ড্রাফটে ৩২ বাংলাদেশি গোল্ড ক্যাটাগরিতে নাহিদ

চুয়াডাঙ্গায় সাপের কামড়ে জামায়াত নেতার মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গায় সাপের কামড়ে জামায়াত নেতার মৃত্যু

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App