আখতার হোসেন
‘শাপলা গণহত্যার শিকারদের রাষ্ট্রীয় শহীদের স্বীকৃতি দিতে হবে’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে নিহতদের রাষ্ট্রীয় শহীদের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সেই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
দলটির সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারা সেই হত্যাযজ্ঞকে সমর্থন দিয়েছিল, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া যাবে না।
শাপলা চত্বরে গণহত্যার ১৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপি কার্যালয়ে 'শাপলা গণহত্যা থেকে জুলাই: মানবতাবিরোধী অপরাধ, ঐতিহাসিক দায়, বিচার এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা' শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আখতার হোসেন।
আখতার হোসেন বলেন, '৫ মের শহীদেরা সব থেকে কম আলোচিত। তাদের ন্যূনতম স্মরণ করার সুযোগটুকুও আওয়ামী লীগ দিতে চায়নি। ৫ মে কেউ মারা গেছে—এ তথ্য প্রকাশ করলেও সেই পরিবারের অন্যদের ওপর সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় জুলুম ও নিপীড়ন করা হয়েছে। এর অন্যতম উদাহরণ 'অধিকার'।'
আওয়ামী লীগকে 'মানবতাবিরোধী সংগঠন' আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি শাসনে সমাজের এমন কোনো অংশ নেই, যার ওপর তারা নিপীড়ন চালায়নি। সংখ্যালঘু থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সবাই তাদের অত্যাচারের শিকার হয়েছে।
এনসিপির সদস্যসচিব আরও বলেন, 'ধর্মকে ব্যবহার করে কোনো ধরনের উগ্রপন্থাও এই দেশে আর দেখতে চাই না। সাধারণ মানুষেরা তাদের কথাটা যেন সুন্দর করে বলতে পারে। তাদের কথার সাথে কে কতটুকু একমত বা দ্বিমত, সেটি বড় নয়; বড় হলো মানুষ তার কথাটা বলে নিরাপদ থাকতে পারলেন কি না, তার ওপরে জুলুম করা হলো কি না।'
নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেন, ২০০৯ সাল থেকেই তথাকথিত রাজাকার বা মৌলবাদী তকমা দিয়ে দেশপ্রেমিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের দমন করার একটি 'লাইসেন্স' তৈরি করেছিল আওয়ামী লীগ।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেন, গণতান্ত্রিক রূপান্তরের যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশ যাচ্ছে, সেখানে অতীতের সব জুলুম ও অবিচারকে বিবেচনায় আনতে হবে। তা না হলে গণতান্ত্রিক কাঠামোতে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। শাপলা চত্বর থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণহত্যা পর্যন্ত প্রতিটি অন্যায়ের বিচার ও স্বীকৃতি প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জোনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সভাপতি মাওলানা আশরাফ মাহদি এবং হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদক মাওলানা ফখরুল ইসলাম।
