গোমস্তাপুরে হাজার বিঘা বোরো ধান প্লাবিত, বিপর্যস্ত কৃষক
মো. আবদুস সালাম তালুকদার, গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) থেকে
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
ছবি : ভোরের কাগজ
ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে পুনর্ভবা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের কুজনঘাটের বিলাঞ্চল এলাকায় প্রায় হাজার বিঘা বোরো ধানের জমি প্লাবিত হয়েছে। এতে নতুন নতুন এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কেটে আনা ধানও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ধান কাটার আগেই অকাল বন্যায় ফসল ডুবে যাওয়ায় কৃষকেরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।
চলতি মৌসুমে গোমস্তাপুর উপজেলায় ১৪ হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে, যার মধ্যে কুজনবিল এলাকায় রয়েছে ২ হাজার ৫০ হেক্টর জমি। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার বিঘা জমির ধান ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রায় ৬০ শতাংশ ধান কাটা হলেও অবশিষ্ট ফসল এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গত দুই দিনের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে পুনর্ভবা নদীর পানি বেড়ে গিয়ে বিলাঞ্চল সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতি আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় কৃষকেরা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুনর্ভবা নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় সামান্য পানি বৃদ্ধি পেলেই আশপাশের বিলাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।
আরো পড়ুন : টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢল, চলনবিলে আধাপাকা ধান নিয়ে শঙ্কায় কৃষক
স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মুঃ মিজানুর রহমান প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে কৃষকদের ক্ষতির বিষয়টি দেখেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
কুজনবিলের কৃষক শফিকুল ইসলাম বিশু বলেন, “আমার ১০ বিঘা জমির মধ্যে ৮ বিঘা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। আধাপাকা ধান কেটে নৌকায় করে তুলতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন কমে যাবে, আমরা বড় ক্ষতির মুখে পড়ব। নদীটি খনন ও ব্রিজ নির্মাণ হলে এই দুর্ভোগ হতো না।”
একই এলাকার কৃষক মামুন জানান, ২০১৭ সাল থেকে নদী খনন ও ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে প্রতি বছরই হাজার বিঘার বেশি ফসল নষ্ট হচ্ছে।
রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মতিউর রহমান বলেন, ৮–১০ বছর ধরে এই সমস্যার সমাধান হয়নি। নদীর গভীরতা মাত্র ৩–৪ ফুট হওয়ায় সামান্য পানি বাড়লেই বিলাঞ্চল ডুবে যায়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সুমন আলী বলেন, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় উজানের পানি এসে বিল প্লাবিত হচ্ছে। নদী খনন ও ব্রিজ নির্মাণ হলে এই সমস্যা কমবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাকলাইন হোসেন জানান, কুজনবিলে প্রায় ২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে, যার মধ্যে ৬০–৭০ হেক্টর ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সী বলেন, প্রতি বছরই উজানের ঢলে এই বিলাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুনর্ভবা নদীর ওপর ব্রিজের অনুমোদন হয়েছে এবং নদী খননের প্রক্রিয়া চলছে। কাজ শেষ হলে এ সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হবে।
