×

রংপুর

২ বছর স্কুলে নেই, তবুও পকেটে ঢুকছে বেতন

Icon

রবিউল ইসলাম বাবুল, লালমনিরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ১০:১৩ পিএম

২ বছর স্কুলে নেই, তবুও পকেটে ঢুকছে বেতন

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিষ্ঠানে নেই টানা দুই বছর, তবুও নিয়মিত পকেটে ঢুকছে সরকারি বেতন-ভাতা। জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে আত্মগোপনে থেকেও ক্ষমতার নেপথ্য দাপটে বহাল তবিয়তে আছেন লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক শরওয়ার আলম।

জানা গেছে, তিনি আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ। কেবল অনুপস্থিতিই নয়, তার বিরুদ্ধে নিয়োগ জালিয়াতি, কোটি টাকার তহবিল তসরুপ এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পদ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে বর্তমানে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় শিক্ষাঙ্গন।

জালিয়াতির ওপর দাঁড়িয়ে মহিষখোঁচা কলেজের অধ্যক্ষ পদ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তিনটি তৃতীয় বিভাগ থাকা সত্ত্বেও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পান শরওয়ার আলম। পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ শহিদুর রহমানের অবসরের পর তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের চেয়ার দখল করেন।

 ২০১২ সালে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা (১২ বছর) না থাকা সত্ত্বেও মাত্র ১০ বছরের অভিজ্ঞতা দেখিয়ে বিধি বহির্ভূতভাবে পূর্ণাঙ্গ অধ্যক্ষের পদ বাগিয়ে নেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তার দাপটের কারণে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান শুরু হলে শরওয়ার আলম গা ঢাকা দেন। তিনি জুলাই আন্দোলনের একটি হত্যা মামলারও আসামি। আজ অবধি প্রতিষ্ঠানের হাজিরা খাতায় তার কোনো স্বাক্ষর নেই। গত বছরের ২৮ আগস্ট জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগে আদিতমারী উপজেলার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরে-ই আলম সিদ্দিকি তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করলেও তিন মাস পর রহস্যজনকভাবে সেই আদেশের কার্যকারিতা হারায়।

পালাতক সরওয়ার আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ ও বড় অঙ্কের ‘উৎকোচ’ বিনিময়ের মাধ্যমে তিনি ঘরে বসেই প্রতি মাসে বেতন উত্তোলন করছেন। 

এদিকে, অধ্যক্ষ শরওয়ার আলমের অনুপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের হাল ধরেছেন সহকারী অধ্যাপক আবুল হোসেন। তবে ‘রক্ষকই ভক্ষক’ হয়ে দাঁড়িয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ভারপ্রাপ্ত এই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের পুরাতন ভবনের ইট-খোয়া পাচার, ফ্যান চুরি মামলার টাকা আত্মসাৎ এবং সাত বছর অনুপস্থিত থাকা চার বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক শিক্ষককে বেতন সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মহিষখোঁচা স্কুল এ্যান্ড কলেজের পুকুর পাড় সংস্কারের নামে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের বিষয় জানাজানি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, "অধ্যক্ষ না আসায় বাকি শিক্ষকরাও অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন। দিনে বড়োজোর একটি বা দুটি ক্লাস হয়। ঐতিহ্যবাহী এই কলেজের শিক্ষার পরিবেশ এখন ধ্বংসের মুখে।"

অধ্যক্ষ অনুপস্থিত থেকেও কীভাবে বেতন পাচ্ছেন—এমন প্রশ্নে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল হোসেন জানান, ইউএনও’র নির্দেশেই বেতন শিট তৈরি করা হয়। তার মতে, "অধ্যক্ষ না এসেও সুবিধা পাবেন, আর আমি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে কী গালি খাব? সরকার তাকে সুবিধা দিচ্ছে বলেই আমি বেতন শিট পাঠাই।" নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগকে অস্বীকার কর তিনি ভোরের কাগজ সাংবাদিককে বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।

কলেজের বর্তমান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদার জানান, "ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ যে বিল দেন, আমি তাতে অনুমোদন করি। এখানে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ যদি দায়িত্ব পালনে অনীহা প্রকাশ করেন, তবে আমরা সিনিয়র কাউকে দায়িত্ব দেব।"

এদিকে, পলাতক অধ্যক্ষ শরওয়ার আলম সম্প্রতি পুনরায় কলেজে যোগদানের জন্য লিখিত আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। একসময়ের নামী এই বিদ্যাপীঠের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফেরাতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ এবং এই ‘ভৌতিক’ বেতন ভোগীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন সমাজ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

দেশে এলো আরো ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

দেশে এলো আরো ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

পশ্চিমবঙ্গে ১৫ কেন্দ্রে কারচুপি, পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত

পশ্চিমবঙ্গে ১৫ কেন্দ্রে কারচুপি, পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত

আওয়ামী লীগের মতোই একাত্তরের চেতনা বিক্রি করছে বিএনপি

রাশেদ প্রধান আওয়ামী লীগের মতোই একাত্তরের চেতনা বিক্রি করছে বিএনপি

ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App