×

রংপুর

তদারকির অভাব

দুর্যোগের আশ্রয় কেন্দ্র এখন নিজেই দুর্ভোগে

Icon

হাবিবুর রহমান হবি, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম

দুর্যোগের আশ্রয় কেন্দ্র এখন নিজেই দুর্ভোগে

ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার প্রকল্পে মাত্র ৪০টি কলাম নির্মাণ করা হয়েছে। কাজটি প্রায় ১ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদার ও পিআইওসহ সংশ্লিষ্ট কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এতে একদিকে হাজারো শ্রমিক পড়েছেন মজুরি অনিশ্চয়তায়, অন্যদিকে বানভাসিদের সামনে দেখা দিয়েছে দুর্ভোগের শঙ্কা। পিআইও ও ঠিকাদারসহ দায়িত্বশীলদের গাফলতিকেই দুষছেন এলাকাবাসী। বলছি উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটি বোচাগাড়ির পোড়ারচরে (৮ নম্বর ওয়ার্ড) নির্মাণাধীন দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্রের কথা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আশ্রয় কেন্দ্রের জায়গায় বালু ভরাট করা হয়েছে। মানুষের জন্য তিনতলা ও গবাদিপশুর জন্য একটি একতলা ভবন হওয়ার কথা ছিল। সেখানে গবাদিপশুর ভবনের ৪০টি কলাম বসানো হয়েছে মাত্র। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সামগ্রী। কোথাও বাঁশ, কোথাও ইটের খোয়া, আবার কোথাও শাটারের তক্তা পড়ে আছে। পড়ে আছে মিকচার মেশিন। টিউবওয়েলে পড়েছে মরিচা। কাজের লোকদের থাকার ঘরটিও ভেঙে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে যে কাজটি বন্ধ রয়েছে, সেটি দেখেই বোঝা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, আমরা বানভাসি মানুষ। বন্যা হলেই গবাদিপশু, আসবাবপত্র ও পরিবার নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ভাসতে হয়। সে কারণে দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্রটি আশীর্বাদ মনে করেছিলাম। আর এ কারণে ফসল নষ্ট করে জমি দিয়েছি। অন্তত বন্যায় যেন ভাসতে না হয়। কিন্তু সে আশায় এখন ছাই। আশ্রয় কেন্দ্র তো এখনো হলোই না, বরং জমিগুলো আবাদ করলে ফসল পেতাম, সেটাও নেই। এদিকে আশ্রয় কেন্দ্রে বাকিতে শ্রমিকের কাজ করেছি, সেই টাকাও বুঝি আর পাব না। দায়িত্বশীলদের গাফলতির কারণেই আজকের এ দুরবস্থা বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. এন্তাজ আলী (৬২) বলেন, “এ আশ্রয় কেন্দ্রে জমি লেগেছে ১২ বিঘা। সবগুলোই খাস জমি। আমরা সেগুলো আবাদ করতাম। আশ্রয় প্রকল্পে দিয়েছি, যাতে বন্যা হলে এ এলাকার মানুষ আশ্রয় নিতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “এক বিঘা জমিতে এবারও চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ মণ ভুট্টা হয়েছে। তাহলে ১২ বিঘা জমিতে আমরা কত ভুট্টা পেতাম? আর সেই জমিগুলো চব্বিশ সালেরও আগে ছেড়ে দিয়েছি। একদিকে আবাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি, অন্যদিকে আশ্রয় কেন্দ্রও হচ্ছে না। মহাবিপদে ফেলেছেন সরকার আমাদের।” অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করার দাবিও জানান তিনি।

আরেক সুবিধাভোগী মো. ফজলু মিয়া (৫৫) বলেন, “কাজটা শুরু হয়েছে ২০২৪ সালের দিকে। ৬ মাস হওয়ার পর থেকে বন্ধ আছে। পিআইও, কন্ট্রাক্টর, ঠিকাদার কেউ আর আসেন না। মোবাইল করলে ফোনও রিসিভ করেন না। ধরার কোনো লোকও পাইতেছি না। এখানে আমরা ৫ থেকে ৬ মাস শ্রমিকের কাজ করেছি। চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা পাব। সে টাকাও পাইতেছি না। এখন আমরা খুবই অসহায়। কে শুনবে এখন আমাদের কথা।” তিনি আরও বলেন, “ঠিকাদার অনিয়ম করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পিআইও অফিসের লোকজন সৎ ও দায়িত্বশীল হলে আজ এই দুরবস্থা তৈরি হতো না। অনিয়মে তারা উল্টো ঠিকাদারকে সহযোগিতা করেছেন।”

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাফিজার রহমান জানান, “কাজটা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে। প্রকল্পে সাধারণ মানুষের প্রায় ১২ বিঘা জমি দেওয়া আছে। কিন্তু কাজ তো হচ্ছে না। বন্যার সময় যদি বানভাসিরা আশ্রয় নিতে না পারে, তাহলে জমি দেওয়ার কী দরকার ছিল। কাজটি দ্রুত করার জন্য সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাই।”

জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উষাণ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বরাদ্দ ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা। কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। সময় বাড়ানোর কাজ চলছে। সে অপেক্ষায় আছি।” তবে কত তারিখে ওয়ার্ক অর্ডার হয়েছে এবং কবে শেষ হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, “চার থেকে পাঁচ লাখ নয়, শ্রমিকেরা হয়তো কিছু টাকা পেতে পারেন। সেটি হেড মিস্ত্রির কাছে পাবেন, আমার কাছে নয়।”

কাজটি তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মশিউর রহমানের মোবাইল ফোনে বহুবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তার দপ্তরে কয়েকদিন গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “এ প্রকল্পের কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। তবে কাজটি বন্ধ আছে বিষয়টি জানি। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ, তাই বন্ধ আছে। আগামী অ্যাক্টিং মিটিংয়ে মেয়াদ বাড়ানো হবে।”

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই।” খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ১০ গরুবোঝাই ট্রাক লুট

কুমিল্লা মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ১০ গরুবোঝাই ট্রাক লুট

বাংলা একাডেমি ‘রবীন্দ্র পুরস্কার-২০২৬’ ঘোষণা

বাংলা একাডেমি ‘রবীন্দ্র পুরস্কার-২০২৬’ ঘোষণা

 মুরাদনগরে সড়ক প্রকল্পে অনিয়মের প্রমাণ

মুরাদনগরে সড়ক প্রকল্পে অনিয়মের প্রমাণ

 ভারতকে ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ বললেন পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের

ভারতকে ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ বললেন পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App