ভারতকে ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ বললেন পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
ভারতের বিরুদ্ধে আবারও তীব্র আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। দেশটির আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী ভারতকে ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী তোমরাই। কেউ তোমাদের কথা শোনে না, বিশ্বাসও করে না।’
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘মারকা-ই-হক’-এর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় পাকিস্তান নৌ ও বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। গত বছরের ২২ এপ্রিল পেহেলগাম হামলা থেকে শুরু করে ১০ মে যুদ্ধবিরতি পর্যন্ত সময়কালকে পাকিস্তান ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধ’ হিসেবে পালন করে থাকে।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই আহমেদ শরিফ চৌধুরী দাবি করেন, সশস্ত্র বাহিনী শত্রুকে পরাজিত করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। গত এক বছরের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, ‘মারকা-ই-হক’-এর ফলে ১০টি কৌশলগত পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে প্রধান হলো—পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের উৎস হিসেবে উপস্থাপনের ভারতীয় চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
আইএসপিআর প্রধান প্রশ্ন তোলেন, পেহেলগাম হামলায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ ভারত দিতে পারেনি। তাঁর মতে, ভারতই উল্টো পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদদ দিচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতের সামরিক নেতৃত্বের রাজনীতিকরণ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সামরিকীকরণ ঘটেছে, যা পুরো অঞ্চলের জন্য বিপজ্জনক।
কাশ্মীর প্রসঙ্গে আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল। সেখানে জনসংখ্যার ভারসাম্য পরিবর্তনের চেষ্টা করে ভারত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের ‘তথ্যযুদ্ধ’ বিশ্ববাসীর কাছে এখন পরিষ্কার।
প্রতিবেশী আফগানিস্তান প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় ভারতকে সহায়তা করছে আফগান মাটি। তাঁর ভাষায়, ‘মারকা-ই-হক’-এ শিক্ষা পাওয়ার পর ভারত মরিয়া হয়ে আফগান তালেবান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
