অ্যালকোহল পানে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে আরো ২
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় অ্যালকোহল পানে বিষক্রিয়ায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরো দু’জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের সাতভেন্টি এনায়েতপুর গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে ছাত্তার মিয়া (৬০) ও একই ইউনিয়নের বুজরুক ঝালই এলাকার মৃত মতিয়ার মিয়ার ছেলে হুজুর আলী (৪৫) ও সংগ্রামপুর বেলতলা এলাকার মৃত কফুর উদ্দিনের ছেলে মো. সাজু মিয়া (৫৫)।
অসুস্থরা হলেন- সংগ্রামপুর বেলতলা এলাকার মৃত কফুর উদ্দিনের ছেলে মো. সাজু মিয়া (৫৫) ও বুজরুক ঝালই পাকারমাথা এলাকার মৃত সুলতান আলীর ছেলে এরশাদ মিয়া (৪০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাতে বালারহাট বাজারে নিষিদ্ধ অ্যালকোহল পানের পর কয়েকজন ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষক্রিয়ায় তাদের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের একজন হুজুর আলী, যিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অন্যজন ছাত্তার মিয়া, তিনি কয়ারমারি গুচ্ছগ্রামে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে অসুস্থ হয়ে মারা যান। বর্তমানে ছাত্তার মিয়ার লাশ এনায়েতপুর সাতভেন্টি এলাকায় তার বোনের বাড়িতে রাখা হয়েছে। এছাড়া একই ঘটনায় আরও দুইজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
বালারহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য সুজা মিয়া বলেন, ‘গতরাতে রোববার (৩১ মে) কোনো এক সময় তারা অ্যালকোহল পান করে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান। সকালে বাড়িতে আব্দুস সাত্তার ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে হুজুর আলী মারা যান।’
এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাজু (৫০) নামে একজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এরশাদ আলী (৩০) নিজ বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে, ঘটনা জানাজানি হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ এবং মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে বালারহাট ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তারা মদ্যপান করেই মারা গিয়েছে। মরদেহ যাতে পোস্টমর্টেম করাতে না হয়, এই জন্য পরিবারের লোকজন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।’
একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য সুজা মিয়া বলেন, ‘গত রাতে (৩১ মে) কোনো এক সময় তারা রেকটিফায়েড স্পিরিট পান করে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান। সকালে বাড়িতে আব্দুস সাত্তার ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে হুজুর আলী মারা যান। এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাজু (৫০) নামে একজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এরশাদ আলী (৩০) নিজ বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’
মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মীর হোসেন বলেন, ‘হাসপাতালে এমন কোনো রোগী ভর্তি হয়নি।’
মিঠাপুকুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ আহমেদ জানান, ‘হুজুর আলী নামের একজনের কার্ডিয়াক অ্যাটাকে হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে। অপরজনের মদপানে মৃত্যু হয়েছে কিনা, আপাতত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় তদন্ত চলমান আছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ জানান, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
