ভ্যাপসা গরমে ঘামের অস্বস্তি থেকে মুক্তির উপায়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ঘাম হওয়া মানবদেহের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত ঘাম অনেক সময় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং দৈনন্দিন কাজেও বিঘ্ন ঘটায়। বিভিন্ন শারীরিক বা পরিবেশগত কারণে ঘাম বেশি হতে পারে। এ সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। তবে দৈনন্দিন কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে ঘামের অস্বস্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
নিয়মিত গোসলের অভ্যাস করুন
প্রতিদিন অন্তত একবার গোসল করলে শরীর পরিষ্কার থাকে এবং ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমে। বিশেষ করে গরমের দিনে দিনে দুইবার গোসল করলে আরও স্বস্তি পাওয়া যায়। গোসলের পর শরীর ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া জরুরি। পায়ের আঙুলের ফাঁক, হাঁটুর ভাঁজ, বগল এবং হাতের কনুইয়ের ভাঁজ ভালোভাবে মুছে শুকনো রাখতে হবে, কারণ এসব জায়গায় ঘাম বেশি জমে।
খালি পায়ে বা বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন
বাসায় থাকলে খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস করতে পারেন। এতে পায়ে বাতাস লাগে এবং ঘাম দ্রুত শুকিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় জুতা পরে থাকলে মাঝে মাঝে তা খুলে পায়ে বাতাস লাগানো ভালো। এতে আরামও পাওয়া যায় এবং দুর্গন্ধ কমে।
আরামদায়ক ও সুতির পোশাক পরুন
যারা বেশি ঘামেন, তাদের জন্য সুতির ও ঢিলেঢালা পোশাক সবচেয়ে উপযোগী। এই ধরনের কাপড়ে বাতাস সহজে চলাচল করে, ফলে ঘাম দ্রুত শুকিয়ে যায়। বিশেষ করে অফিস, ব্যায়াম, রান্না কিংবা ঘুমানোর সময় আরামদায়ক পোশাক পরলে শরীর অনেক হালকা লাগে।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়, যা শরীরকে পানিশূন্য করে তুলতে পারে। তাই দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। পানি শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং ক্লান্তি কমায়।
অতিরিক্ত গরম এড়িয়ে চলুন
সম্ভব হলে দুপুরের তীব্র গরমে বাইরে যাওয়া কমিয়ে দিন। বাইরে গেলে ছাতা ব্যবহার করুন এবং হালকা রঙের পোশাক পরুন, কারণ গাঢ় রঙ তাপ বেশি শোষণ করে।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন
ঝাল ও তেলযুক্ত খাবার ঘাম বাড়াতে পারে। তাই গরমের সময়ে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া ভালো। ফলমূল, শাকসবজি এবং পানিসমৃদ্ধ খাবার শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন
ঘামের কারণে শরীরে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। তাই পরিষ্কার কাপড় পরা, নিয়মিত কাপড় পরিবর্তন করা এবং প্রয়োজন হলে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।
এই সহজ অভ্যাসগুলো মেনে চললে ভ্যাপসা গরমেও ঘামের অস্বস্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব এবং সারাদিন স্বস্তিতে থাকা যায়।
আরো পড়ুন : দিল্লি বিমানবন্দরে দুই বিমানের সংঘর্ষ
