মাঝরাতে পেশিতে টান ধরে যে কারণে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মাঝরাতে হঠাৎ পায়ের পেশিতে তীব্র টান ধরে ঘুম ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়ে থাকে। তখন পা সোজা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। সাধারণভাবে অনেকে মনে করেন শুধু পানি কম খাওয়ার কারণেই এই সমস্যা হয়, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে ডিহাইড্রেশন ছাড়াও আরো নানা কারণে পেশিতে টান ধরতে পারে।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের মতে, পেশিতে আঘাত লাগলেও টান ধরার সমস্যা হতে পারে। তবে চোট ছাড়াও অনেক সময় ঘুম থেকে ওঠার সময় পায়ের পেশিতে টান দেখা যায়। এর অন্যতম কারণ হলো শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন।
বিশেষজ্ঞরা জানান, শরীরে তরল ও প্রয়োজনীয় খনিজের ঘাটতি হলে পেশির স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়। ফলে পেশির সঙ্কোচন ও প্রসারণ ঠিকভাবে না হওয়ায় টান ধরে। এ ছাড়া ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতিও এই সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।
যাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়, তাদের মধ্যে রয়েছেন যারা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করেন বা অতিরিক্ত হাঁটাহাঁটি করেন। এছাড়া শরীরে ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকলেও ঝুঁকি বাড়ে। গর্ভবতী নারীদের মধ্যেও পায়ের পেশিতে টান ধরার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
আরো পড়ুন : কম ঘুমে বাড়ছে অবসাদ, দায়ী হতে পারে মিনারেলের ঘাটতি
রাতে বেশি টান ধরার কারণ হিসেবে বলা হয়, বিশ্রামের সময় শরীরের নিচের অংশে রক্ত সঞ্চালন তুলনামূলক কমে যায়। ফলে পেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও খনিজ পৌঁছাতে পারে না। এর সঙ্গে ডিহাইড্রেশনও বড় ভূমিকা রাখে।
পেশিতে টান ধরলে সাময়িক আরামের জন্য আক্রান্ত স্থানে হালকা মালিশ করা যেতে পারে। পাশাপাশি আইস প্যাক বা বরফ সেঁক দিলে পেশি দ্রুত শিথিল হয় এবং ব্যথা কমে। যাদের নিয়মিত এই সমস্যা হয়, তাদের ক্ষেত্রে ভিটামিন ও খনিজের মাত্রা পরীক্ষা করার জন্য রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, নিয়মিত ব্যায়াম করলে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করাও উপকারী হতে পারে।
