×

আবহাওয়া

সবচেয়ে উষ্ণ মাসে যে কারণে বেড়েছে বৃষ্টি

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম

সবচেয়ে উষ্ণ মাসে যে কারণে বেড়েছে বৃষ্টি

ছবি : সংগৃহীত

বাতাসে ভেসে থাকা জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে নিচে নেমে এলে সেটাই বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পড়ে। তবে এবার দেশের প্রাক-বর্ষা মৌসুমে বাতাসের স্বাভাবিক ছন্দে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। আর সেই কারণেই স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

এই অতিবৃষ্টির প্রভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্তত পাঁচ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এপ্রিল সাধারণত বছরের সবচেয়ে উষ্ণ মাস। এ মাসে স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ১১৯ মিলিমিটার। কিন্তু এবার হয়েছে ১৯৬ মিলিমিটার, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে সিলেট বিভাগে, যেখানে ৬০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে—স্বাভাবিকের তুলনায় ১০৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। এছাড়া ঢাকাতে ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ, ময়মনসিংহে ১৫০ দশমিক ৯ শতাংশ, রংপুরে ৮৭ দশমিক ১ শতাংশ, খুলনাতে ৬৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং বরিশালে ১৬৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। কেবল রাজশাহী বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে।

এপ্রিল মাসে সাধারণত গড়ে ৮ দিন বৃষ্টি হয়। কিন্তু এবার বৃষ্টির দিন ছিল ১১ দিন। এর মধ্যে সিলেটে ২৩ দিন, ময়মনসিংহে ১৫ দিন, ঢাকায় ১১ দিন এবং রংপুরে ১০ দিন বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : দেশের ৯ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি

আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রাক-বর্ষা মৌসুমে কালবৈশাখী ও বজ্রঝড় সাধারণত তৈরি হয় উত্তর দিক থেকে আসা ঠাণ্ডা পশ্চিমা লঘুচাপ এবং বঙ্গোপসাগর থেকে আসা উষ্ণ ও জলীয় বাষ্পসমৃদ্ধ বাতাসের সংমিশ্রণে। কিন্তু এবার ডিসেম্বরের পর টানা চার মাস পশ্চিমা লঘুচাপ দেশে প্রবেশ করেনি। ফলে শীতকালেও তেমন বৃষ্টি হয়নি।

আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ বলেন, বাংলাদেশে মূলত দুই কারণে বৃষ্টিপাত হয়—পশ্চিমা লঘুচাপ ও দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে। পশ্চিমা লঘুচাপ ভূমধ্যসাগর অঞ্চল থেকে হিমালয় হয়ে আসে এবং সঙ্গে ঠাণ্ডা বাতাস নিয়ে আসে। এবার দীর্ঘ সময় এটি অনুপস্থিত থাকার পর একসঙ্গে কয়েকটি শক্তিশালী লঘুচাপ প্রবেশ করায় বৃষ্টিপাত বেড়ে যায়।

তিনি জানান, এপ্রিল মাসে সাধারণত তাপপ্রবাহ থাকে। কিন্তু একসঙ্গে কয়েকটি শক্তিশালী পশ্চিমা লঘুচাপ সক্রিয় হওয়ায় প্রবল বৃষ্টি হয়েছে। ২০১৭ সালের পর এবারই সবচেয়ে বেশি প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি দেখা গেলেও এটিকে অস্বাভাবিক বলছেন না তিনি।

আবহাওয়াবিদ মো. তারিফুল নেওয়াজ কবিরও মনে করছেন, এটি মূলত প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফল। তার ভাষায়, গত কয়েক বছর অতিরিক্ত তাপপ্রবাহ ও বৃষ্টিহীন আবহাওয়ার কারণে এবার বৃষ্টিটা বেশি মনে হচ্ছে। তবে এটি অস্বাভাবিক নয়।

তিনি বলেন, অনেকেই এই পরিস্থিতিকে জলবায়ু পরিবর্তন বা এল নিনোর প্রভাব বলছেন। তবে বর্তমানে এল নিনো নিরপেক্ষ অবস্থায় রয়েছে এবং জুন-জুলাইয়ের আগে তা সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই একে এল নিনোর সরাসরি প্রভাব বলা যাচ্ছে না।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মে মাসের শেষ দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দেশের দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং জুনের শুরুতে বর্ষা পুরো দেশে বিস্তার লাভ করতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, মে মাসে ২২০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার, জুনে ৪৫০ থেকে ৪৭০ মিলিমিটার এবং জুলাইয়ে ৫২০ থেকে ৫৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সময়ে ৮ থেকে ১০ দিন মাঝারি এবং ২ থেকে ৩ দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড় হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এদিকে এপ্রিলের শেষের দিকে টানা অতিভারী বৃষ্টিতে নেত্রকোণা, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনো কয়েকটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ছয় জেলায় অন্তত ৩ লাখ ৩০ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকার পরিবারপ্রতি সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে সহায়তা দিচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিলসহ মাদক কারবারি আটক

বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিলসহ মাদক কারবারি আটক

ঘুষের দায়ে চীনের সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

ঘুষের দায়ে চীনের সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

মাদকবিরোধী পোস্ট ঘিরে বাড়িতে হামলা, ছাত্রদল নেতা টেটাবিদ্ধ

মাদকবিরোধী পোস্ট ঘিরে বাড়িতে হামলা, ছাত্রদল নেতা টেটাবিদ্ধ

মধু খাওয়ার আগে যেসব ভুল এড়াবেন

মধু খাওয়ার আগে যেসব ভুল এড়াবেন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App