একসঙ্গে সব দুর্বল ব্যাংক ঠিক করা সম্ভব নয়: গভর্নর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে টাকার ঘাটতি রয়েছে, তাই একসঙ্গে সব দুর্বল ব্যাংক ঠিক করা সম্ভব নয়। বুধবার (২১ জানুয়ারি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে ‘ব্যাংকিং খাত: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা জানান।
গভর্নর বলেন, “কিছু খারাপ ব্যাংক ছিল, তাদের জন্য টাকা ছাপিয়ে দিতে হয়েছে। বর্তমানে টাকার ঘাটতি থাকায় সব ব্যাংক একসঙ্গে ঠিক করা সম্ভব নয়। প্রথমে সরকারি ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে, পরে বেসরকারি ব্যাংকগুলো ঠিক করা হবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, কোনো ব্যাংক ঋণখেলাপি শতভাগ কাভারেজ না করলে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারবে না এবং এতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঋণ খেলাপি ৩০ শতাংশ এবং পরবর্তী বছরের মার্চে ২৫ শতাংশে নামানোর কাজ করছে।
আরো পড়ুন : ছয় মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৪৬ হাজার কোটি টাকা
গভর্নর জানান, রাষ্ট্রমালিকানাধীন দুটি ব্যাংক ছাড়া বাকিগুলো সরকার মার্জ করার পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, দেশে ১৫টির বেশি ব্যাংক প্রয়োজন নেই। আগামী ২-৩ বছরে ১২-১৩টি ব্যাংক ঠিক করা হবে।
তিনি জানান, ব্যাংক রেজুলেশন কার্যক্রমের জন্য একটি ফান্ড গঠন করা হবে, যাতে সংকটের সময় সরকারের কাছে হাত পাততে না হয়। এছাড়া ব্যাংকিং খাতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত, দুর্বৃত্তায়ন, অনিয়ম ও পরিবারতন্ত্রের কারণে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে, যা হয়ত পাচারও হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে গভর্নর বলেন, ব্যাংক পুরোপুরি স্বাধীন নয়, তবে স্বাধীনভাবে কাজ করছে। ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
অন্তর্ভুক্ত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, রাজস্ব ফাঁকির প্রধান উপায় ক্যাশ। যদি দেশে ক্যাশলেস সোসাইটি বাস্তবায়িত করা যায়, বছরে রাজস্ব আদায় ১.৫ থেকে ২ লাখ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাবে।
